ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের মানবকল্যাণ ও সম্প্রীতির আদর্শ ধারণ করে সাম্প্রদায়িকতা-মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানালেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব তিথি ও ভাগীরথী–পদ্মায় পুণ্যস্নান মহোৎসব উপলক্ষে পাবনার হিমাইতপুরে আজ (২০ সেপ্টেম্বর) এক বর্ণাঢ্য ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো ভক্ত, অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে আধ্যাত্মিক পরিবেশে এ মহোৎসব উদ্‌যাপিত হয়।

ধর্মসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণ শংকর দাস, সভাপতি, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র কেবল একজন আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ নন; তিনি মানবতা, নৈতিকতা, শিক্ষা, কর্ম ও সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবনদর্শন মানুষকে সত্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক ভালোবাসার পথে পরিচালিত করে এবং একটি সহনশীল সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অটোপাসের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল, সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছিল, তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবিধানিক, আর্থিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, এসব অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয় এবং ফ্যাসিবাদের পতনের পথ রচিত হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপ পাহারার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগণ ব্যাপকভাবে বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদী সংস্কৃতি, আর সেই সংস্কৃতিকে ধারণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

ধর্মসভা শেষে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা এবং পুণ্যস্নান মহোৎসবের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।