ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আধুনিক কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে-কৃষিমন্ত্রী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আধুনিক কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বছরব্যাপী কৃষি উৎপাদনের বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মন্ত্রী আজ কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হাফেজ মাওলানা মোঃ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা এবং কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার।

মন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি গ্রামে মসজিদ রয়েছে এবং প্রতিটি মসজিদের সঙ্গে একজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন যুক্ত আছেন। তাঁরা যদি আধুনিক ও বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনে এগিয়ে আসেন, তাহলে নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের মানুষকেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।”
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া এবং সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করা। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে কেউ যেন কোনো অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে কৃষকেরা রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও কৃষি ব্লকে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের আধুনিক কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরও কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে অন্যায় ও মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পরে মন্ত্রী তৃতীয় হিফজুল কোরআন বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী হাফেজ ছাত্রদের মাঝে বৃত্তির সনদ ও স্মারক তুলে দেন।