প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ। তাদের জীবন মানউন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে -সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ। তাদের জীবন
মানউন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

আজ রাজধানীর মিরপুর ১৪, ঢাকাস্থ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত
‘বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা/ প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বক্তব্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন হয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সম্মান, তাদের প্রতি যে দায়িত্ব, তা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তাদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে তাদের পাশে থাকতে হবে। তাদের পরিবর্তনটা সমাজের সর্বস্তরে আসতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রবেশ গম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের চলাচলের জন্য রেম্পের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তাঁরা সমাজের বোঝা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাদেরকে এডুকেশনাল স্কিল দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য “দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন” যথার্থ উল্লেখ করেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র
সাত মাস। এখনো আমরা দৃশ্যমান কিছু করতে পারিনি। আমাদের আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের বিশ্বাস আপনারা সময় দিলে এদেশের সকল ক্ষেত্রে আমরা পরিবর্তন আনব ইনশাআল্লাহ।

নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় বড় ভবন ও বিপণি বিতান নির্মাণকালে র‍্যাম্প সংযোজন কিংবা গণপরিবহণে প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে গণপরিবহণে চালক ও সহকারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যাক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ এবং সাধারণ নাগরিকদেরও পারস্পরিক সহমর্মিতার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমই পারে তাদের প্রচার ও প্রতারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে। সমাজের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা নিয়ে মানুষ প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। এসব বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্ত্রী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ১১০ জন শিশুদের মাঝে বিশেষ অনুদানের চেক প্রদান করেন ।
সবশেষে বিশেষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে এক দলীয় সংগীত অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। মন্ত্রী এবং উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মোঃ কামরুজ্জামান দুলাল। অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাইন্ড এডুকেশন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এর সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ কবীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু, তাদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী নেতৃত্বে “বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে একটি র‍্যালি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১৪ গোলচত্বর প্রশিক্ষণ করে ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।