এ বছর সারের আমদানি বাড়ানো হবে- কৃষিমন্ত্রী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ বছর সারের আমদানিও বাড়ানো হবে।

মন্ত্রী আজ রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহী বিভাগের সার, বীজ, সেচ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে যত সারের প্রয়োজন হবে, সরকার তা সরবরাহ করবে। কোনো অবস্থাতেই কৃষক যাতে সারের সংকটে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি সার মজুত রয়েছে। দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকটের আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রী সারের পাচার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
সার ডিলারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী সময়মতো সার উত্তোলন করতে হবে। কোনো ডিলার নির্ধারিত সময়ে সার উত্তোলন না করলে তাঁকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ডিলারশিপ ভাড়া দেওয়া বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকের সুবিধার্থে মৌসুমে সকাল নয়টার মধ্যে সার বিক্রির দোকান খোলা এবং বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার আগে বন্ধ না করার জন্য ডিলারদের নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নতুন ফসল ও কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে সারের চাহিদা বাড়লে সরকার প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করবে। তবে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় কৃষকদের সুষম ও পরিমিত সার ব্যবহারে সচেতন করতে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ জোরদার করতে হবে। মাছ চাষে সার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মৎস্য কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী রাজশাহী জেলায় আদা, টমেটো, কাঁচা মরিচের চাষাবাদ সম্প্রসারণ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন,স্থানীয়ভাবে এসব ফসলে দেশকে স্বয়ং-সম্পূর্ণ করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রেজাউল আলম সরকার। সভায়
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বক্তব্য রাখেন।

সভায় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকগণ যুক্ত ছিলেন।