‘হুমকি-চাপে’র ভাষায় কথা বললে আলোচনা নয়, সাফ জানাল ইরান

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার আগে স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে—হুমকি ও চাপের ভাষা বন্ধ করতে হবে। এই অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদে প্রত্যাশিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উভয় পক্ষের অবস্থানগত টানাপোড়েনেই নির্ধারিত বৈঠকটি আপাতত এগোয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তেহরান জোর দিচ্ছে একটি সম্মানজনক ও উত্তেজনামুক্ত পরিবেশের ওপর। ইরানের মতে, গঠনমূলক সংলাপের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আস্থার পরিবেশ অপরিহার্য, যা ছাড়া কোনো কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পাকিস্তানকে জানিয়েছে—ওয়াশিংটনের বক্তব্যের সুর নরম হলে তেহরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য গড়ে তোলা সহজ হবে। বিশেষ করে কঠোর অবস্থানে থাকা মহলের সমর্থন পেতে এমন পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তেহরান।
আগামী ২৭ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করা হয়। এতে আলোচনা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষই এখন কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ২৫ এপ্রিল ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল। তবে সফর বাতিলের ফলে নির্ধারিত যোগাযোগের সুযোগও নষ্ট হয়। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান সফরে মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মতবিনিময়ের অংশ ছিল। সফর শেষে আরাগচি ২৫ এপ্রিল রাতেই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান মূলত কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আলোচনায় সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার কৌশল। তারা বলছেন, সংলাপের পথ বন্ধ না করে বরং একটি কার্যকর ও টেকসই আলোচনার ভিত্তি গড়তেই তেহরান শর্তের বিষয়টি সামনে আনছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু না হলেও সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। উভয় পক্ষের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা এলে ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনার পথ খুলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাব্য সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। তাই এখন নজর রয়েছে—ওয়াশিংটনের অবস্থান কতটা বদলায় এবং তেহরান কবে আলোচনায় বসার সবুজ সংকেত দেয়। তথ্যসূত্র : তাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *