প্রতিবন্ধীদের জনসম্পদে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এদেরকে আমরা কর্মক্ষম করে সমাজের মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসতে চাই। এই জনগোষ্ঠীকে যদি কর্মক্ষম করে তোলা যায়, তাহলে তারা দেশের জন্য জনসম্পদে পরিণত হবে।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর মিরপুর-১৪-তে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রশাসনের প্রতিটি সেকশন ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাক ও শ্রবণ, দৃষ্টি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ব্রেইল পদ্ধতি ও ইশারা ভাষার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীসহ সকল ধরনের প্রতিবন্ধীদের সাথে কথা বলেন, তাদের খোঁজ খবর নেন। মন্ত্রী তাদের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম, আবাসনের সুব্যবস্থা, সুসমখাদ্য,চিকিৎসা ও পয়ঃনিষ্কাশনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি ফাউন্ডেশনে সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ।
পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এটি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ, কোনো সাংগঠনিক বা বিশেষ উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান নয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এখানে কলেজ রয়েছে। পাশাপাশি শ্রবণপ্রতিবন্ধী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের জন্য পৃথক স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। তাদের আবাসনের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজে কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করতে সহায়তা করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও আমরা সহযোগিতা করে থাকি। এটি একটি সমন্বিত কমপ্লেক্স, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার অংশ হতে পারেন, সে লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার দেশসেবার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, সেবা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারের সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা, প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি করা এবং শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও এ ধরনের কলেজ ও সেবাকেন্দ্র সম্প্রসারণ করা। কারণ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমাদের ১০৩টি কেন্দ্র রয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, কারও স্পিচ থেরাপি প্রয়োজন, কারও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, আবার কারও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। এসব সেবা কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এই জনগোষ্ঠীকে যদি কর্মমুখী ও কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা না যায়, তাহলে তারা সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। কিন্তু শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি তাদের কর্মক্ষম করে তোলা যায়, তাহলে তারা দেশের জন্য জনসম্পদে পরিণত হবে। আর সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। আজ এখানে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংশ্লিষ্ট পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে—কীভাবে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আরও বাড়ানো যায় এবং কীভাবে দেশের সব প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে সেবাগুলো আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। আপনারা এরই মধ্যে এডিসি সভার পর কিছু বিষয় জেনেছেন। সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আমাদের সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।

তিনি আরও বলেন, বাজেট নিয়ে বিস্তারিত জানতে আপনারা আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আড়াইটার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, জনকল্যাণ, মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে বাজেট উপস্থাপিত হবে, তা জনগণের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করতে না পারলেও তার বড় একটি অংশ পূরণ করবে। এতে মানুষ আশ্বস্ত হবে।

এ সময় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ তরিকুল আলম, পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সোনামণি চাকমা, কলেজের অধ্যক্ষ , ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *