শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যয় সাশ্রয়ে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ছয়টার পর সব মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত পৌনে ৯টায় শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সচিব জানান, নতুন সময়সূচী অনুযায়ী ব্যাংক লেনদেন চলবে বিকেল তিনটা পর্যন্ত। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা খোলার বিষয়ে আগামী রোববার বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই সময়ে সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান বা আকাশযান ক্রয় করা হবে না। এমনকি কম্পিউটারসহ অন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনাও আপাতত বন্ধ থাকবে।
বৈঠকে গৃহীত অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হলো- সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে, সভা-সেমিনার আয়োজন বাবদ বরাদ্দ ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ার কথা উল্লেখ করে নাসিমুল গনি বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানিনির্ভর। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা।
সরকার বসে নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সতর্ক করে জানান, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।