ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন রাষ্ট্র গঠনে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম ২০২৬’-এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি পাঠকদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক জনাব আফসানা বেগম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একসময় ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিল। আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে ইবনে বতুতা পর্যন্ত বহু পর্যটক ও ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশকে পুনরায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি কাঠামোগত রূপান্তরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং মাদকের বিস্তার রোধ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মকেই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শন চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, করোনাকালীন সংকটের সময় শুরু হওয়া ‘জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম’ বর্তমানে একটি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৯টি গ্রন্থাগারের ৬৪৭ জন পাঠক অংশগ্রহণ করেন।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘ক’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ এবং একাদশ শ্রেণি থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ‘খ’ ক্যাটাগরির পাঠকদের জন্য জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নির্ধারণ করা হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট ২০ জন পাঠককে সেরা পাঠক হিসেবে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বইপ্রেমী পাঠক, গণগ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *