শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, এমপি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেছেন,সরকার, চিকিৎসা সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অঙ্গদান মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা বহু মরণাপন্ন রোগের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘন্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে। এজন্য জনগণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটর তৈরির মাধ্যমে দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের প্রসারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। এই সম্মেলন দেশে অঙ্গদানের সংস্কৃতি তৈরিতে এবং কিডনি চিকিৎসার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।
তিনি আজ ঢাকার মিরপুরে কিডনি ফিউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে , Bangladesh Korea Friendship Conference on Live and Deceased Donor KidneyTransplantation 27-28 June 2026 ” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
সম্মেলনে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর- রশিদ এর সভাপতিত্বে রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি, এশিয়ান সোসাইটি অফ ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর কিউরি আন( Curie Ahn), অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিল এর প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান(Jeremy Chapman), দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অফ কোরিয়ার স্থায়ী কমিশনার এমিরিটাস অধ্যাপক ইন সু্ং মুন(In Sung Moon), ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ এর এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন( Hee Young Shin), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বক্তৃতা করেন। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
স্বাগত বক্তৃতা করেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারী দেশি- বিদেশি চিকিৎসকগণ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে (ESRD) আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন। দেশে বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার (Deceased Donor) থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। বক্তারা বলেন, সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরও সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং ট্রান্সপ্লান্টেশন সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সকলের প্রতি আহ্বান জানান।