শুভদিন অনলাইন রিপোটার:
চ্যাম্পিয়নের মতোই ছুটছে আর্জেন্টিনা। অপরাজিত থেকেই শেষ করেছে গ্রুপ পর্ব। হয়ে উঠেছে যেন অপ্রতিরোধ্য, তিন ম্যাচে জিতেছে তিনটাই। যেখানে সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
জর্ডানের বিপক্ষে আজ একাদশে ছিলেন না মেসি। তবে শেষ ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেই রেখেছেন ছাপ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও তাই বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তাদের জয় ৩-১ গোলে।
ফিফা বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত রইল আর্জেন্টিনা। আর অন্যদিকে টানা সাত ম্যাচে গোল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন লিওনেল মেসি। যেই রেকর্ড নেই ফুটবল ইতিহাসে আর কারো।
ডালাসে এই ম্যাচে কিছুই পাওয়ার ছিল না আর্জেন্টিনার। আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা। তাই গা গরমের ম্যাচে একাদশে ৯ পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশের মাত্র দু’জন খেলোয়াড়- এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও লাউতারো মার্টিনেজকে কেবল এই ম্যাচের একাদশে রাখেন।
তবে সবচেয়ে বেশি তারা মিস করতে পারতো লিওনেল মেসির অভাব। প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা ৫ গোলের সবগুলোই ছিল তার। ফলে প্রশ্ন উঠছিল- মেসি ছাড়া কেমন করবে দল? পাবে তো গোল?
উত্তর মিলে প্রথমার্ধেই। জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শিরোপাধারীরা। ষষ্ঠ মিনিটে জালে একবার বলও পাঠান লো সোলসো। কিন্তু অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল।
তবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে লিড নেয় আর্জেন্টিনা। দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোলটি করেন সেই জিওভানি লো সেলসো।
এর ১২ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আরভারেজ ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। যা থেকেই বিশ্বকাপে প্রথম গোল পেলেন লাউতারো।
২-০ গোল নিয়ে বিরতি থেকে ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জালের দেখা পান হুলিয়ান আলভারেস। মার্তিনেসের কাটব্যাকে জাল খুঁজে নেন তিনি। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়।
এর মাঝেই ৫৫ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে ব্যবধান কমায় জর্ডান। এহসান হাদ্দাদের ক্রসে মুসা আল-তামারি খুঁজে নেন জাল। ঝাঁপিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম গোল হজম করল আর্জেন্টিনা। তবে এই রেশ কেটে যায় ৬০ মিনিটে। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মাঠে নেমে নিজেকে আলাদা করতে সময় নেননি তিনি। ৮০তম মিনিটে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকে জাল খুঁজে নেন মেসি। আর তাতেই গড়লেন নতুন আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোল করলেন মেসি। এর আগে টানা ছয়টি করে ম্যাচে গোল দিয়ে রেকর্ডটি ছিল ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জার্জিনিয়োর (১৯৭০)।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শেষ চার ম্যাচে গোল করেছিলেন মেসি। আর এবার গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে গোল করে ফন্তেইন ও জার্জিনিয়োকে ছাড়িয়ে সিংহাসনে দখলে নিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপে এটি তার ষষ্ঠ আর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডটাও আরো সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
চেষ্টা করলেও পরে আর গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে আর গোল হজমও করতে হয়নি। পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই নকআউটে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
আগামী শনিবার মায়ামিতে শেষ ৩২-এ এই আসরের চমক কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।