ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার ক্ষতি ৮.৭ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ

শুভদিন অনলাইন রিপোটার:

ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এখনো চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল, যেটিকে ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৫১ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পের পর তিন দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জীবিত উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা প্রায় শেষ হয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।
উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে শুক্রবার রাত থেকে লা গুয়াইরা অঞ্চলে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এই অনুমতি কীভাবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যদিও সরকার দাবি করেছে, তারা সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবন রক্ষা করা অলৌকিক ঘটনার মতো। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সরকার উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
এরই মধ্যে দেশটির আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। যদিও নতুন এই কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, নিরাপত্তার খোঁজে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি দ্রুত মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *