যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরের নাম হলো ‘ট্রাম্প’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের উদ্যোগে জাতীয় স্থাপনা থেকে শুরু করে ব্যাংকনোট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নাম ও ছবি যুক্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরের নাম বৃহস্পতিবার পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে।

এ পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ও দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর একটি হবে!’

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে পরিচিত এই বিমানবন্দরে ট্রাম্প পরিবারের ব্যক্তিগত ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ নামে পরিচিত বোয়িং-৭৫৭ উড়োজাহাজ অবতরণের মাধ্যমে এ পরিবর্তন উদযাপন করেন ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প।

নবনামকরণ করা ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ ফক্স নিউজকে তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘আজ একটি সুন্দর দিন।’

বিমানবন্দরটি ট্রাম্প পরিবারের মার-আ-লাগো গলফ রিসোর্ট ও আবাসন থেকে অদূরে অবস্থিত।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এ নাম পরিবর্তনের আইনে স্বাক্ষর করেন।

এরিক ট্রাম্প বলেন, ‘পাম বিচের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আর কেউ এতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত নন। সম্ভবত পুরো ফ্লোরিডাতেও নয়।’

তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়া প্রধান সড়কের নাম আগেই ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড’ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে পাম বিচে উড়ে আসা যাত্রীদের টিকিটে স্থায়ীভাবে ‘ডিজেটি’ দেখা যাবে।
বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এ নাম পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

করপোরেট পাইলট ক্রিস বেইলি এ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে এএফপিকে বলেন, ট্রাম্প ‘নিশ্চয়ই একটি বিমানবন্দরের নাম তাঁর নামে রাখার মতো যথেষ্ট কাজ করেছেন।’ তবে কেউ কেউ এর বিরোধিতাও করেছেন।

‘ব্যাংকনোট, ভবন ও সেতু’-
জীবিত ব্যক্তি, বিশেষ করে দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের নামে মুদ্রা ও সরকারি ভবনের নামকরণ না করার যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ট্রাম্পের নাম ও ছবি দ্রুত বিভিন্ন স্থানে যুক্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার টেনেসিতে নতুন ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ব্রিজ’-এর উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া ট্রাম্পের নামে ভিসা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পাসপোর্টে তাঁর ছবি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ পাসে ইতোমধ্যে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘ট্রাম্প ক্লাস’ নামে একটি নৌযানের নতুন শ্রেণিও ঘোষিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার নোটে প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের স্বাক্ষরও যুক্ত হবে।

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনে কোনো সমস্যা দেখেন না এরিক ট্রাম্প।

ফ্লোরিডার বিমানবন্দরের নাম তাঁর বাবার নামে রাখায় প্রেসিডেন্টের অনুভূতি কী—এ প্রশ্নের জবাবে এরিক ট্রাম্প বলেন, “তিনি ‘সম্মানিত’ও ‘বিনীত’ বোধ করছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *