মাইন্ড মাস্টার রিট্রিট অ্যান্ড এমসিএ কনভোকেশন’; প্রকাশিত হলো ড. মেছবাহ উদ্দিনের ‘ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট’, বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

মানুষের হলিস্টিক ওয়েলবিইং, মেন্টাল ফিটনেস ও ব্যক্তিগত বিকাশে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার, রাজধানীর ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রিমিয়াম মাইন্ড মাস্টার রিট্রিট অ্যান্ড এমসিএ কনভোকেশন(জুলাই ২০২৬)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং ব্যারিস্টার রেদওয়ান হোসেন, অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, লেখক, মাস্টার কোচ এবং অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার রেদওয়ান হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য আমরা যারা ভাবি সমাজ পরিবর্তন করবো, সমাজের মানুষের জন্যে আমরা যারা চিন্তাশক্তি বিনিয়োগ করি, সমাজে সুইসাইড, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি, সমাজ পরিবর্তন করতে যা যা লাগে তার মধ্যে আজকের উদ্যোগও একটি। এই জন্য আমি ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন কে ধন্যবাদ জানাই। আজকে এখেনে যারা মাইন্ড কোচ আছেন এবং ডা মেছবাহ সহ সমাজের জন্য আপনারা যারা কাজ করে যাচ্ছেন আমি সবাইকে এপ্রিশিয়েট করি।
তিনি ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির প্রশংসা করে বলেন ,’আমি চাইব এরকম একটি বই আমার লাইব্রেরি তে থাকুক। তিনি আরো বলেন, বই এর কয়েকটি লাইন আমার পছন্দ হয়েছে যা মানুষ আসলে চিন্তা করবে না, “চিন্তা আমার শত্রু নয়” যা ডক্টর মেজবাহর স্টেটমেন্ট। এইটা আমরা কয়জন ভাবি। আমাদের কাছে চিন্তা মানে দুশ্চিন্তা, রাতে ঘুম হয়না, খাওয়া দাওয়া হয় না। চিন্তা যে আমাদের শত্রু নয় এটা বড় একতা ফীলিং এর বিষয়। এই বইটিকে যদি আমরা ধারণ করতে পারি তাহলে এক দারুন সূচনা হবে।

তিনি বলেন, ব্যাধিই সংক্রামক… স্বাস্থ্য নয়। আমরা বিদেশে গিয়ে অনেক খারাপ কিছু শিখে আসি, কিন্তু ভালো কিছুও যে শেখা যায় এই বিষয়টা আমরা ভুলেই গেছি। যদি আমাকে ভালোবাসি, নিজেকে রিয়ালাইজ করি; আমি যদি মনে করি ‘আই ক্যান ডু ইট” তাহলে আমরা আসলেই কাজটি করতে পারব। এ জন্য আমাদের মেন্টাল হেলথ নিয়ে কাজ করাটা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে ও নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে, পরিবার থেকে পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। তিনি বলেন সরকার একা দেশ পরিবর্তন করতে পারবে না যদি না আমরা নিজেরা যে যার জায়গা থেকে পরিবর্তন হই। তিনি আরও বলেন, ড.মেছবাহ উদ্দিন রচিত যুব সমাজের মাইন্ডনেস নিয়ে কথা লিখেছেন অত্যন্ত চমৎকার। এধরনের চিন্তাশীল বই পাঠক ধারন করতে পারলে সমাজ পরিবর্তনে করতে সময় লাগবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্ত্যবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান হোসেন বলেন, মেন্টাল ওয়েলবিইং নিয়ে বাংলাদেশের পার্সপেকটিভ-এ খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়না। তবে বৈশ্বিক ভাবে মেন্টাল হেলথকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার আগেই আমরা যদি মেন্টাল স্ট্রেস নিয়ে কাজ করতে পারি সেটি সবচেয়ে উত্তম। ডিফোকাস সহ নানা স্ট্র্যাটেজিক পদ্ধিতিতে স্ট্রেস কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য আমি মেহবাহকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও ওয়েলবিং পাবলিকেশনের কাজগুলো দুটো পার্পাস সার্ভ করছে। এক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে দ্বিতীয়ত সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশে কে রিপ্রেজেন্ট করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, পৃথিবিতে ওয়েলনেস প্রয়োজন নেই এমন কোন প্রানী নেই। তবে এই বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোন কাজ নেই। ব্যাক্তির ওয়েলনেস পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। আমাদের সামাজিক ও আর্থিক যে অবস্থা, যদিও ডেভেলপমেন্ট আসছে নানা ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের মানসিক ওয়েলনেস, সফট স্কিল ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আজকে যারা মাইন্ড মাস্টার হয়েছেন তাদের কাছে বলছি ওয়েলনেস কে মানুষের মধ্যে সংক্রামক এর মতো ছড়িয়ে দেবেন ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডিং চেয়ারম্যান, অথর এবং দ্য মাইন্ড মেন্টর ড. মেছবাহ উদ্দিনের নতুন বই “ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট”-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
বইটিতে আধুনিক জীবনে ওভারথিংকিং, মেন্টাল নয়েজ ও থট প্যাটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং চিন্তাকে দমন করার পরিবর্তে কার্যকরভাবে পরিচালনার বিভিন্ন বাস্তবধর্মী ধারণা ও কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। “আনলিশ দ্য পাওয়ার অব হিলিং” এবং “স্লিপ ওয়েলনেস ব্লুপ্রিন্ট”-এর পর এটি ড. মেছবাহ উদ্দিনের ওয়েলবিইং-কেন্দ্রিক লেখালেখির ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন।
অনুষ্ঠানে ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যখন ইনফরমেশনের অভাবের চেয়ে মেন্টাল ওভারলোড এবং মেন্টাল নয়েজ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ‘ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট’-এর মূল মেসেজ হলো ‘আপনার চিন্তার সঙ্গে লড়াই না করে, বরং সেগুলোকে পরিচালনা করতে শিখুন। ।’”
তিনি আরও বলেন, মানুষের ওয়েলবিইংকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখা জরুরি। এই দর্শন থেকেই ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মানুষের শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, পেশাগত, পরিবেশগতএবং পারিবারিক ওয়েলবিইং—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডাইমেনশন নিয়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরিতে কাজ করছে।
ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর লক্ষ্য প্রসঙ্গে ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের মিশন—এমপাওয়ার ওয়েলনেস অ্যান্ড ট্রান্সফর্ম ১০০ মিলিয়ন লাইভস। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষের ইতিবাচক ট্রান্সফরমেশন তার পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মি. শের শাহসহ ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাস্টার কোচ কনভোকেশন ও নতুন লেখকদের বই প্রকাশ
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মাস্টার কোচ অ্যাক্সেলারেটর (এমসিএ) কনভোকেশন। প্রোগ্রাম সম্পন্নকারী মাস্টার কোচদের সার্টিফিকেট ও রিকগনিশন প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
একই আয়োজনে ড. মেছবাহ উদ্দিনের মেন্টরশিপের সঙ্গে যুক্ত ছয়জন নতুন লেখকের ছয়টি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন লেখক তৈরি এবং তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বইয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বইগুলো প্রকাশ করা হয়।
দিনব্যাপী মাইন্ড মাস্টার রিট্রিটে ড. মেছবাহ উদ্দিনের “রিইগনাইট ইয়োর পটেনশিয়াল”, “রিডিজাইন ইয়োর ইনার স্টোরি অ্যান্ড রাইজ অ্যাবাভ ক্যাওস”, “ব্রেক ফ্রি ফ্রম ফিয়ার অ্যান্ড বি আনস্টপেবল”-সহ বিভিন্ন ট্রান্সফরমেশনাল ও এক্সপেরিয়েনশিয়াল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের হলিস্টিক ওয়েলবিইং নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা, শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *