শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি নিজেই প্রায় দুই ঘণ্টা করে মোট ছয় ঘন্টার টানা তিনটি প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপকল্প, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শেখার মানোন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আজ সিলেট পিটিআইয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সিলেট আয়োজিত “বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা,মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা “শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণ সেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো বিদ্যালয় কেন অকার্যকর, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অন্য যেকোনো কারণ সবকিছুর বাস্তব তথ্য মাঠপর্যায় থেকেই জানতে হবে। বাস্তব চিত্র গোপন না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সব বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হবে শিক্ষার্থীর শেখা। কতটি ভবন নির্মিত হয়েছে বা কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুরা বিদ্যালয়ে এসে সত্যিকার অর্থে কতটুকু শিখছে। সেই লক্ষ্য অর্জনেই মাঠ প্রশাসনকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক যোগাযোগও একজন শিক্ষা কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন,মিড ডে মিল এবং উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন মানেই শুধু প্রশাসনিক তদারকি নয়; প্রতিটি পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটুকু শিখছে তা যাচাই করা। এজন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ‘লার্নিং অডিট’ পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিমন্ত্রী নিজে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা শুনেছেন, সমাধানের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ফলভিত্তিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতার একটি নতুন কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সিলেট বিভাগের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।