বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর দুই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বদলগাছীতে পানিতে ডুবে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু এবং একই দিন আত্রাইয়ে নিজ ঘর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এদিন দুপুরে বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের কার্তিকাহার গ্রামের একটি খালে গোসল করতে নেমে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী নুর ইসলাম (২২) কে দেখতে না পেয়ে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারও (১৮) ঝাঁপ দেয় খালের পানিতে। আর এতে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
নিহত নুর ইসলাম মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং সুমাইয়া আক্তার বদলগাছীর কার্তিকাহার গ্রামের শাহিনের মেয়ে। ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
অপরদিকে সকালে জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া সরদার পাড়া নিজ বাড়ি থেকে লিমন হাসান (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যুবক লিমন হাসান ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে বদলগাছী শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন নূর ইসলাম। রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বড় খালে অন্যদের সঙ্গে গোসল করতে নামেন নুর ইসলাম। এ সময় পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার স্ত্রী সুমাইয়া। একপর্যায়ে নুর ইসলাম পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পানিতে নেমে সুমাইয়াও নিখোঁজ হন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কাজী তাহরিমা আক্তার মুন্নি বলেন, স্থানীয় লোকজন দুজনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে শনিবার রাতে লিমন হাসান একাই তার কক্ষে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তিনি দরজা না খুললে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। এ সময় কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়ছে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, হাসপাতালেই মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।