নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সরকারি কবি নজরুল কলেজে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা মোঃ তৌফিক শাহারিয়ার। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আহতদের এবং গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লড়াই করতে গিয়ে আহত ও নির্যাতিতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তৌফিক শাহারিয়ার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বলেই আজ আমরা বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেয়েছি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ।”
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কঠিন সময়ে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক আকলিমা ম্যাম।
তিনি বলেন, “আকলিমা ম্যাম চাকরির ভয়কে তোয়াক্কা না করে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রশাসনের চাপ উপেক্ষা করে তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। আমরা আগামী দিনে এমন শিক্ষক চাই, যারা বুক ফুলিয়ে কথা বলবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে অবস্থান নেবেন।”
জুলাইয়ে রাজপথে থাকা কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের দাবি
বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তৌফিক শাহারিয়ার।
তিনি ১৫তম বিসিএসের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা ড. নাজমুল করিম খান-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।
তৌফিক শাহারিয়ার বলেন, “জুলাইয়ের পর অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু যারা কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখনও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। ড. নাজমুল করিম খানের মতো কর্মকর্তাদের যদি মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে—জুলাই আন্দোলনের অংশীদার হওয়াই কি তাঁদের অপরাধ?”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত এবং আন্দোলনের সময় সাহসী ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, সততা ও অবদানের ভিত্তিতে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
‘৩৬ জুলাইয়ের প্রবক্তা’ শামসুল আলমের প্রসঙ্গ
তৌফিক শাহারিয়ার তাঁর বক্তব্যে ‘৩৬ জুলাই’ প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি ৯ম ব্যাচের সাবেক সিনিয়র সচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস শামসুল আলমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং তাঁকে ‘৩৬ জুলাইয়ের প্রবক্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু রাজপথে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আন্দোলনের পেছনে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের অবদানও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিতদের মূল্যায়নের আহ্বান
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদেরও যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানান তৌফিক শাহারিয়ার।
তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা—এটাই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ইসরাক হোসেন, এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কবি নজরুল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সরকারি কবি নজরুল কলেজের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ চার পরিবারের সদস্য, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অবদান তুলে ধরা হয়। বক্তারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।