মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য বড় দুঃসংবাদ: যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা কংগ্রেসের

Spread the love

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। দলটির মতে, এই চুক্তি ভারতের বস্ত্রশিল্প ও তুলা চাষিদের জন্য এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কংগ্রেস দাবি করেছে, মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগে বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে এমন কিছু সুবিধা পেয়েছে, যা ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য কেন দুঃসংবাদ- তা ব্যাখ্যা দিয়ে আজ মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী ভারতীয় পোশাকের ওপর ১৮% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য সাধারণ শুল্ক ১৯% হলেও একটি বিশেষ ‘শূন্য শুল্ক’ ক্লজ বা শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
এই শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি আমেরিকান তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তবে সেই পোশাকগুলো কোনো শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। কংগ্রেসের আশঙ্কা, এর ফলে ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে।
কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ভারতের অর্থনীতিতে দুটি বড় ধরনের আঘাত আসবে। প্রথমত; বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের উৎপাদিত তুলার অন্যতম প্রধান ক্রেতা। কিন্তু শূন্য শুল্ক সুবিধার লোভে বাংলাদেশ এখন ভারতের বদলে আমেরিকা থেকে তুলা আমদানিতে ঝুঁকে পড়বে। এতে ভারতের তুলা চাষি এবং সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো বিশাল লোকসানের মুখে পড়বে।
দ্বিতীয়ত; যেখানে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ১৮% শুল্ক দিয়ে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ শূন্য শুল্কে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাওয়ায় ভারতের বাজার দখল করে নেবে।কংগ্রেসের পোস্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, ভারতের প্রধান বস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিরুপুর, সুরাট এবং পানিপথ এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কংগ্রেস সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছে, এই চুক্তি ভারতের বস্ত্রশিল্পকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকা সংকটে ফেলছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ তুলেছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই চুক্তিকে ভারতের বস্ত্রশিল্পের জন্য “মরণকামড়” হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, “যখন সরকার দাবি করছে ভারতের জয় হয়েছে, তখন আসলে পর্দার আড়ালে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো বড় ধরনের সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। এটি সরাসরি আমাদের কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী।”
এদিকে, এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ভারতের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। গোকালদাস এক্সপোর্টস, কেপিআর মিল এবং বর্ধমান টেক্সটাইলের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৯% পর্যন্ত কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *