নারী ও শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ–উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারী ও শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশ। সাম্প্রতিক দশকে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে শাসন ব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে এসডিজি ৫, যা জেন্ডার সমতা অর্জন ও নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য নিবেদিত এবং এসডিজি ১৬, যা ন্যায়পরায়ণ, শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে, সেখানে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন।

তিনি আজ গুলশানে লেকশোর হোটেলে নাগরিকতা এক্সপেনশন সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, নাগরিকতা কেবল একটি আইনি পরিচয় নয়- এটি মর্যাদা, অধিকার এবং সম্ভাবনার প্রতীক। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে নাগরিকতার স্বীকৃতি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম করে। তাই নাগরিকতা প্রকল্পে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি হলো কোন নারী বা শিশু যেন পরিচয়হীনতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং সচেতনতা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই নাগরিকতা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যাবে।
এই বাস্তবতায় ‘নাগরিকতা’:
সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড(CEF)’ একটি সময়োপযোগী এবং কৌশলগত উদ্যোগ যার লক্ষ্য নাগরিক সমাজকে সক্রিয় করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা , এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ডক্টর কে এম মামুন উজ্জামান বক্তৃতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *