Blog

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত যাদের, বাদ পড়েছে যারা

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টারঃ

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ পর্ব, যেখানে জায়গা করে নেবে ৩২টি দল। এই পর্বের খেলা শুরু হবে ২৮ জুন এবং চলবে ৩ জুলাই পর্যন্ত।

যেভাবে নির্ধারিত হবে নকআউটের দল
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-এ উঠবে। এর সঙ্গে গ্রুপগুলোর তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটিও নকআউটে খেলার সুযোগ পাবে।
এরপর রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ।

সমান পয়েন্টে নতুন টাইব্রেকার
এবারের বিশ্বকাপে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আগে গোল ব্যবধানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এবার প্রথম বিবেচনায় রাখা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচের ফলাফল বা হেড-টু-হেড রেকর্ড।
এই নিয়মের কারণে ইতোমধ্যে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও জর্ডানের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে। কারণ তারা নিজেদের গ্রুপের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকায় সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলের তালিকায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা হারিয়েছে।

সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে
একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হবে তাদের পারস্পরিক ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর বিবেচনায় আসবে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যা।
যদি তাতেও অবস্থান নির্ধারণ সম্ভব না হয়, তাহলে গ্রুপের সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোল, ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং শেষ পর্যন্ত ফিফা র‌্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, ফেয়ার প্লে এবং প্রয়োজন হলে র‌্যাঙ্কিং ব্যবহৃত হবে।

যেসব দল ইতোমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করেছে
সহ-আয়োজক মেক্সিকো প্রথম দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারানোর আগে তারা উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও পরাজিত করেছিল।
গ্রুপ ‘ডি’ থেকে টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে আরেক স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে প্যারাগুয়ে এবং পরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তারা পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেয়।
গ্রুপ ‘ই’ থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে জার্মানি। কুরাসাও ও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয় পেয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নকআউট নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও দাপটের সঙ্গে পরের পর্বে পৌঁছেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় তাদের শুধু নকআউট নয়, গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন দলের সাফল্যের প্রধান কারিগর।
এ ছাড়া গ্রুপ ‘আই’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফ্রান্স ইরাককে হারিয়ে এবং নরওয়ে সেনেগালের বিপক্ষে জয় পেয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।

যাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ
গ্রুপ ‘সি’ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। ব্রাজিলের কাছে হারের পর তাদের আর এগোনোর সুযোগ থাকেনি।
গ্রুপ ‘ডি’ থেকে ছিটকে গেছে তুরস্ক। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পরাজয়ের ফলে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
তিউনিসিয়াও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। জাপান ও সুইডেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পর তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডানের স্বপ্নও গ্রুপ পর্বেই থেমে গেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হারের পর তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।