শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিমতীর দখলের দিকে কার্যত আরেক ধাপ এগিয়ে গেল ইসরায়েল। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে পশ্চিমতীরের ভূমি ও সম্পদের ওপর নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকারের দুই মন্ত্রী নতুন পদক্ষেপগুলোকে ‘দ্রুত বসতি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তন পশ্চিমতীরকে পুরোপুরিভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘পিস নাউ’-এর নির্বাহী পরিচালক লিওর আমিহাই জানান, নতুন সিদ্ধান্তের তিনটি মূল দিক রয়েছে। প্রথমত, অসলো চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে (সি শ্রেণিভুক্ত) বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জমি কিনতে পারবেন। শুধু তাই নয়, নতুন পদক্ষেপে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলেও (এ ও বি শ্রেণিভুক্ত) তাঁদের জমি কেনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি গোপনীয়তা থেকে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমিহাইয়ের আশঙ্কা, এতে জাল দলিল তৈরি, প্রতারণা এবং ফিলিস্তিনি মালিকদের ব্ল্যাকমেলের ঝুঁকি বাড়বে। এটি বসতি স্থাপনকারীদের আরও বড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে।
তৃতীয়ত, হেবরন ও বেথলেহেমের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোর ওপর থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদ এলাকায় পরিকল্পনা ও নির্মাণের ক্ষমতা স্থানীয় পৌরসভার বদলে ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে যাবে। বেথলেহেমে র্যাচেলস টম্ব পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশাসন গঠন করা হবে, যা সরকারি উন্নয়ন ও অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোসহ পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা এখনো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকেই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ মনে করে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় শত শত ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন—যা ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিন এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছেন।