শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় তারা সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক- ‘বাংলাদেশী’। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে উপমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্ত্রী আজ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু গত নির্বাচনে দেশের মানুষ সেই ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতার মোহে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপাসনালয় ও সম্পত্তি দখল এবং সহিংসতার রাজনীতি করেছে, তাদের সেই অপচেষ্টা এ দেশের জনগণ সফল হতে দেয়নি। বিগত দিনে অর্পিত সম্পত্তি বেদখল ও মন্দির সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো উদ্ধারে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায়-সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যগণ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী।