ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা, গাজার নিরাপত্তায় সেনা পাঠাচ্ছে ৫ দেশ

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

গাজায় স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আইএসএফ-এ সেনা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। আইএসএফ-এর নির্বাহী দায়িত্বে থাকা এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গাজায় এই বাহিনীর ভূমিকা হবে মূলত দ্বিমুখী। প্রথমত, উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, সেখানকার বেসামরিক সরকারকে শাসন পরিচালনায় সরাসরি সহযোগিতা প্রদান করা।
মেজর জেনারেল জেফার্স পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, সমগ্র গাজা উপত্যকাকে পাঁচটি সেক্টরে বিভক্ত করা হবে। প্রতিটি সেক্টরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে একটি করে শক্তিশালী সেনা ব্রিগেড। ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল গাজায় অবস্থান করে আইএসএফ-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ তত্ত্বাবধান করছে।
প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের প্রস্তাব: গত ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা সংকট নিরসনে ২০ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেন। ইসরায়েল ও হামাস— উভয় পক্ষই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং শান্তি রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা। এই আন্তর্জাতিক বাহিনীটি সরাসরি স্থানীয় টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।
মেজর জেনারেল জেফার্সের মতে, গাজার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী অপরিহার্য, যা এই আন্তর্জাতিক বাহিনী নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *