ট্রাম্পকে মাচাদোর নোবেল দেওয়া নিয়ে যা বলল নরওয়ের কমিটি

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্প তা গ্রহণও করেছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওই পুরস্কার ট্রাম্প নিজের কাছেই রেখে দিতে চান। কিন্তু অর্জিত নোবেল পুরস্কার কি এভাবে কাউকে দিয়ে দেওয়া যায়? যদি কেউ দেন, তবে কি নোবেলজয়ীর নামও বদলে যায়? মাচাদো কি নিয়ম ভেঙেছেন? ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মাচাদো। বিজয়ীর নাম ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ট্রাম্প দাবি করছিলেন, এই পুরস্কার তার প্রাপ্য। কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন, গত কয়েক মাসে বিশ্বের আটটি যুদ্ধ তিনি থামিয়েছেন। সেই কৃতিত্বের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে দাবি করেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কার দেয়নি। জয়ী হিসেবে মাচাদোর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরই অবশ্য মাচাদো ওই পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় এবং সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মাচাদো হোয়াইট হাউসে যান এবং নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।
শুধু তো নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক নয়, মাচাদো পেয়েছেন একটি ডিপ্লোমা এবং পুরস্কারমূল্য হিসেবে ১১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। এই অর্থ কি তাহলে ট্রাম্প পাচ্ছেন? শুক্রবার একটি বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, “পদক, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারমূল্যের যা-ই হোক না কেন, মূল বিজয়ীর নামই নোবেল পুরস্কারের প্রাপক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। তিনি তার পদক, ডিপ্লোমা বা অর্থ দিয়ে কী করবেন, সে বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি সেগুলো নিজের কাছে রাখতে পারেন, কাউকে দিয়ে দিতে পারেন, বিক্রি করে দিতে পারেন বা উৎসর্গ করতে পারেন। পুরস্কারটি, তার সম্মান এবং স্বীকৃতি অবিচ্ছেদ্যভাবে কেবল তিনিই পাবেন, যাকে নরওয়ের নোবেল কমিটি মনোনীত করেছে।”
বিবৃতিতে ট্রাম্প বা মাচাদোর নাম উল্লেখ করেনি নোবেল কমিটি। তবে মাচাদো প্রথম নন। এর আগেও নোবেল পুরস্কার দিয়ে দেওয়া বা পদক বিক্রি করার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে দিমিত্রি মুরাটোভ নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেছিলেন। ইউক্রেনের উদ্বাস্তু শিশুদের সাহায্যের জন্য সেই অর্থ জাতিসংঘের শিশুসুরক্ষা তহবিলে তিনি দান করেছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, ওয়াশিংটনপোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *