ওমানকে বিধ্বস্ত করে হতাশাজনক টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

অধিনায়ক মিচেল মার্শের ৩৩ বলে আক্রমণাত্মক ৬৪ রানের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া গতকাল ক্যান্ডিতে ওমানকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশাজনক মিশন শেষ করেছে।
পাওয়ার প্লের ছয় ওভারের মধ্যেই মার্শ নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ৬৪ রানের ইনিংসে মার্শ চারটি ছক্কা ও সাতটি চার হাঁকান। অস্ট্রেলিয়া ওমানকে ১০৪ রানে অলআউট করার পর ১০ ওভারেরও বেশি হাতে রেখে ১ উইকেটে ১০৮ রানে পৌঁছায়।
আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড করেন ৩২ রান এবং জশ ইংলিস অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০ নম্বরে থাকা ওমানের বিপক্ষে এই জয় শ্রীলঙ্কায় বিশৃঙ্খল এক অভিযানের পর অস্ট্রেলিয়ার জন্য সামান্যই সান্তনা বয়ে আনবে।
অস্ট্রেলিয়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়।
মার্শ বলেন, “আমি আগেও কয়েকবার বলেছি, ড্রেসিংরুমে আমরা ভীষণ হতাশ ছিলাম। প্রতিটি দলের মতো আমরাও দুই বছর ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিযয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি।”
পাকিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরে এবং চোটের কারণে ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া এই টুর্নামেন্টে আসে। এরপর অনুশীলনের সময় আঘাত পেয়ে মার্শ প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি।
মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। দ্রুত এই বিদায়ে দেশটির গণমাধ্যম দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ফর্মহীন ক্যামেরন গ্রিনকে দলে রেখে দেওয়া এবং হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ডিসেম্বরের পর না খেলা টিম ডেভিডকে ‘পাওয়ার হিটার’ হিসেবে চার নম্বরে তুলে আনা।
অতীতে ব্যাট হাতে বহুবার ম্যাচজয়ী ভূমিকা রাখা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল রান করতে হিমশিম খান, আর কামিন্স ও হ্যাজলউডের অভিজ্ঞতার অভাব অস্ট্রেলিয়া তীব্রভাবে অনুভব করে।
প্রথম দুই গ্রুপ ম্যাচে ম্যাট রেনশোই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, কিন্তু সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা মরার লড়াইয়ের আগে রহস্যজনকভাবে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
কাল মার্শ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ওমান ইনিংসের প্রথম বলেই আমির কালিমকে বোল্ড করে জেভিয়ার বার্টলেট উইকেট নেন।
বার্টলেট ২৭ রানে ২ উইকেট এবং অ্যাডাম জাম্পা ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ফলে ওমান ১৬.২ ওভারে ১০৪ রানে গুটিয়ে যায়। ওমানের হয়ে ওয়াসিম আলি সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *