শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনার ফলাফল না আসা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
তবে এই ঘোষণার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ নেই।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়নি।
ফলে ট্রাম্পের এই একতরফা আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক গভীর উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমত, এমন হতে পারে যে ট্রাম্প যুদ্ধে হেরে গেছেন এবং যুদ্ধের সবকটি দিক পরীক্ষা করে দেখে তিনি বুঝেছেন যে লড়াই চালিয়ে কোনো লাভ হবে না।
মূলত সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার এটি একটি পথ হতে পারে তার জন্য। কারণ এখন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর নতুন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়।
অবশ্য যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করাটা বোকামি হতে পারে। তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এটি মার্কিন প্রশাসনের একটি বড় ধরনের ধোঁকাবাজি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এমন হতে পারে যে ট্রাম্প মুখে যুদ্ধবিরতির কথা বলছেন কিন্তু ভেতরে ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সরকার কিংবা এই অঞ্চলে তাদের ‘পাগলা কুকুর’ হিসেবে পরিচিত ইহুদিবাদীই সরাইল বড় কোনো নাশকতামূলক হামলার ছক কষছে।
ইরানের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং তারা কোনোভাবেই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছেন না।
আরেকটি জোরাল সম্ভাবনা হলো, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধের ময়দানে রেখে দিতে চায়। লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে ইসরাইলকে দিয়ে লড়াই চালিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে ওয়াশিংটনের।
তবে আমেরিকানদের আগেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে পারবে না। ইসরাইল যদি হামলা চালায়, তবে তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে।
সবশেষে নৌ-অবরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে এই অবরোধ জারি রাখার অর্থ হলো শত্রুতা অব্যাহত রাখা। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ চলবে ততক্ষণ তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে না। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে এই অবরোধ ভাঙা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আসলে চাইছে ইরানের অর্থনীতি এবং রাজনীতিকে যুদ্ধের আবহে ঝুলিয়ে রাখতে, যেমনটা তারা ১২ দিনের যুদ্ধের পর করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উল্লেখ করে তাসনিম নিউজ বলেছে, কারণ এখন হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের ছায়া টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে তাদের ধরে নিতে হবে যে হরমুজ প্রণালীও পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।