মিরপুরে উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশে রাতের আধারে ফসলী জমি নষ্ট করে মাটি পরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশে রাতের আধারে ফসলী জমি নষ্ট করে মাটি পরিবহন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার চিথলিয়া মাঠের মধ্য থেকে এ মাটি কেটে ফসলী জমি নষ্ট করে ড্রাম ট্রাক ও ট্রলিতে করে মাটি পরিবহন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মিরপুরের চিথলিয়া ইটভাটার পাশ দিয়ে মাঠের মধ্য দিয়ে একটি রাস্তা তৈরী করা হয়েছে মাটি পরিবহনের জন্য। চারপাশে তামাকের ক্ষেত। কিছুদূর এগিয়ে যেয়ে এ রাস্তা সরিষার ক্ষেতের ভিতর দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে আরও কিছুদুর এগিয়ে গেলে দেখা যায় একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে, যেখানে এস্কেভেটর বসানো আছে। মাটি উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের আধারে এখান থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফসলী জমি নষ্ট করে তৈরী করা হয়েছে রাস্তা। এসব মাটি সারারাত ধরে উত্তোলন করে দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। মাটি পরিবহনের জন্য যে রাস্তা তৈরী করা হয়েছে, তাতে ফসলী জমি নষ্ট হচ্ছে। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানতে পারা যায় যে, আজকেও ২টা এস্কেভেটর দিয়ে সারারাত মাটি উত্তোলন করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশে এ ধরনের কর্মকান্ড চালাতে সাহস পাচ্ছে মাটি উত্তোলনকারীরা। আবাদী ফসলী নষ্ট হওয়া সংক্রান্তে মিরপুরের চিথলিয়ার মুন্না মোল্লা নামের এক ব্যাক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেও পাচ্ছে না সুরাহা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত করম মোল্লার নিকট সরেজমিনে যেয়ে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন আমাদের জমিতে আমরা মাটি কাটছি, তাতে সমস্যা কি? কিছু অংশ সরকারি জমির মধ্যে পড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। রাতের আধারে মাটি কাটার সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: নাজমুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি কল কেটে দেন। পরে কল ব্যাকও করেননি। ইতিপূর্বে তিনি ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কার্যত কোন স্থায়ী ব্যাবস্থা নেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *