শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে অবৈধ আগ্রাসন এবং মার্কিন পক্ষের হঠকারিতা ও বাড়াবাড়ি বন্ধ করা জরুরি।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে এক টেলিফোন সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। টেলিফোনালাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করেন।
টেলিফোন সংলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার তুর্কি সমকক্ষকে একটি বিশেষ বিষয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে ইরান যে সব কূটনৈতিক চেষ্টা এবং উদ্যোগ নিয়েছে, তার সর্বশেষ পরিস্থিতি তিনি হাকান ফিদানকে জানান। এ সময় তিনি পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সব হঠকারি কর্মকাণ্ডের কথা তোলেন। একইসাথে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের করা কিছু হাস্যকর ও অপমানজনক কথাবার্তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আব্বাস আরাগচি আরো বলেন, পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী যেভাবে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, তাতে কূটনীতির পথে তাদের আসল উদ্দেশ্য এবং আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলে মার্কিন পক্ষের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানি জাতির মনে দীর্ঘদিনের যে সন্দেহ রয়েছে, তা আরো গভীর হচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে যদি সামনে এগিয়ে নিতে হয়, তবে অন্য পক্ষের অবৈধ আগ্রাসন এবং অযৌক্তিক আবদার বা হঠকারিতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি এই প্রক্রিয়ায় ইরানের চলমান উদ্যোগের প্রতি তুরস্কের সমর্থনের কথা আবারো নিশ্চিত করেন। দখলদার ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা উস্কানির মুখেও এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই তিনি সবচেয়ে বড় সমাধান হিসেবে দেখছেন।