বাংলাদেশের পরিবর্তন করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গণভোট ২০২৬ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, যার মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি মতামত প্রদানের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।

আজ মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পঞ্চগড় সরকার অডিটরিয়ামে আয়োজিত গণভোট ২০২৬ প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায়।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গণভোটে যদি ‌‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে না পারি, ‌‌‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে এতগুলো রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে দেশগড়ার যে সুযোগ এসেছে, সেটা আমরা হারাব। আগের নিয়মে ফিরে যাবো।

গণভোটে বাংলাদেশের পরিবর্তন করতে হলে, অতীতের স্বেরাচারী কর্মকাণ্ড থেকে জাতির পরিত্রাণের জন্য, জনগণের সত্যিকার ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে জনগণকে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দিতে হবে।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, গণভোট সফল করতে জনগণের মধ্যে সঠিক ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। বিভ্রান্তি নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমেই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, গণভোট একটি সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে জনগণের মতামত অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “গণভোট ২০২৬-এর মাধ্যমে জনগণ শুধু ভোট দেবে না, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি পঞ্চগড় জেলার জনগণের সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে বলেন, এই জেলা সবসময় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে এসেছে। গণভোট ২০২৬ সফল করতেও পঞ্চগড়ের জনগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *