আনিসুর রহমান, সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের নীলনকশা বাস্তবায়নে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চালিয়েছে বর্বর হামলা। প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর, নারীদের শ্লীলতাহানি এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে হত্যার হুমকি দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মোঃ শাহ জামাল (৫৪), পিতা—মৃত হাজী মাইনুদ্দিন মিয়া, সাং কামারগাঁও, ইউপি মোগড়াপাড়া, থানা সোনারগাঁ—থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও ভূমিদস্যুরা তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে কুখ্যাত ভূমিদস্যু মীর কবির হোসেনের নেতৃত্বে ১০ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জন সন্ত্রাসী দা, চাপাতি, লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে শাহ জামালের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৩০–৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লোহার রড ও হকিস্টিকের আঘাতে শাহ জামালের ছেলে সিফাত গুরুতর আহত হন। চাপাতির কোপে জুয়েলের হাত মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং এসএস পাইপের আঘাতে মাসুদের নাক গুরুতরভাবে আহত হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এখানেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীদের বর্বরতা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় কয়েকজন বিবাদী পরিবারের নারী সদস্যদের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করে। পাশাপাশি তারা ঘর থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, নগদ দেড় লক্ষ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আহত জুয়েলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।