ফারহানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলংকাকে হারিয়েও সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ পাকিস্তান

Spread the love

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে সুপার এইটে গ্রুপ-২এ নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৫ রানে হারিয়েও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে পারল না পাকিস্তান।
সুপার এইটে ৩ ম্যাচ খেলে সমান ৩ পয়েন্ট পেয়েছে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় ও শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের রান রেট ১.৩৯০ এবং পাকিস্তানের -০.১২৩। এই গ্রুপ থেকে ৩ ম্যাচ খেলে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই সেমিতে নাম লেখায় ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনালে খেলতে হলে শ্রীলংকাকে হারানোর পাশাপাশি রান রেট বিবেচনায় নিউজিল্যান্ডকে টপকে যেতে এ ম্যাচে ৬৪ রানে জয় বা ১৩.১ ওভারের মধ্যে রান তাড়া করার সমীকরণ পেয়েছিল পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে ফারহানের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২১২ রানের পাহাড় গড়ে তারা। এরপর শ্রীলংকাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল পাকিস্তানের বোলারদের। কিন্তু ৬ উইকেটে ২০৭ রান তুলে সুপার এইটে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টানে শ্রীলংকা।
পাল্লেকেলেতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ৯৫ বলে ১৭৬ রান যোগ করেন ফারহান ও ফখর জামান। এরমধ্যে পাওয়ার প্লেতে ৬৪, ১০ম ওভারে ১শ ও ১৪তম ওভারে দেড়শ রান পূর্ণ করেন ফারহান ও জামান এসময় দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন।
১৬তম ওভারে দলীয় ১৭৬ রানে জামানের বিদায়ে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। শ্রীলংকার পেসার দুসমন্থ চামিরার শিকার হবার আগে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রান করেন জামান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন ফারহান-জামান।
জামান ফেরার পর যাওয়া-আসার মিছিলে মেতে উঠে পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তবে এক প্রান্ত আগলে ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ফারহান। দু’টিই সেঞ্চুরিই এই বিশ্বকাপে করেন তিনি। এর আগে কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রান করেছিলেন ফারহান।
৫৯ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া ফারহান পরের ডেলিভারিতেই আউট হন। শ্রীলংকার পেসার দিলশান মাদুশাঙ্কার শিকার হবার আগে ৬০ বল খেলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১০০ রান করেন তিনি। এতে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১২ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। বিশ্বকাপে এটি সর্বোচ্চ দলীয় রান তাদের। শ্রীলংকার মাদুশাঙ্কা ৩টি ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা ২ উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদের ঘূর্ণিতে ১০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলংকা। তখনও লংকানদের ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখার স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ৩৩ বলে ৬১ রানের জুটিতে পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন পাভান রত্নানায়েকে ও শানাকা। শ্রীলংকার স্কোর ১৬২ রান নিয়ে যান তারা। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রান করেন রত্নানায়েকে।
রত্নানায়েকে যখন ফিরেন তখন ৪ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১৫ বলে ৫১ রান দরকার পড়ে শ্রীলংকার। ১৮তম ওভারে ১৮ রান আসলে শেষ ৬ বলে ২৮ রানের সমীকরণ পায় লংকানরা। পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির করা শেষ ওভারের প্রথম বলে চার এবং পরের তিন বলে তিন ছক্কায় ১৮ রান তুলেন শানাকা। এতে শেষ বলে ৬ রান প্রয়োজন পড়ে লংকানরদের। কিন্তু শেষ দুই বল থেকে কোন রানই নিতে পারেননি শানাকা। ফলে ৬ উইকেটে ২০৭ রান তুলে ম্যাচ হারে লংকানরা।
২টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৩১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন শানাকা। আবরার ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন ফারহান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *