মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় গরু বাঁধতে গিয়ে সাপের কামড়ে সালেহা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সালেহা খাতুন ওই এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
সরে জমিনে গিয়ে স্থানীয় ও পারিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশের একটি মরিচ খেতের পাশে গরু বাঁধতে যান সালেহা। গরু বাঁধার সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। এতে সাপ সাপ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে যান এবং তার পায়ে সাপের কামড়ানো স্থানের উপরে কাপড় বেঁধে দেয়। তখন সালেহা সুস্থ্য ছিল। এরপর স্থানীয় হাফেজিয়া মাদ্রাসায় চাকরিরত তার জামাই নাজমুল খবর পেয়ে দ্রুত তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন না দিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সালেহার স্বামী আতিয়ার রহমান বলেন, তার স্ত্রীকে যখন সাপ কামড় দেয় তখন তিনি ভুট্টা খেতে কাজ করছিলেন। তার অভিযোগ সাপে কামড়ানো স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসার অবহেলা করা হয়। এর জন্য পঞ্চগড়ে পাঠালে সেখানেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৪/৫ বছর আগে শারিয়ালজোত এলাকায় এক গৃহবধূকে সাপে কামড় দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড়ে রেফার্ড করলে ওই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাকিল রহমান বলেন, অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়ার পর আইসিইউ ম্যানেজমেন্ট খুবই জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালে এই ব্যবস্থা নেই। ডিউটিরত চিকিৎসকের সময় রোগীর পালস ও জিপির অবস্থা ভালো ছিলনা ওই মুহুর্তে অ্যান্টিভেনম দিলে হইতো রোগী এক্সপায়ার করার সম্ভাবনা ছিল, সেই বিবেচনা করে ডাক্তার চিন্তা করছেন তাকে হাইয়ার সেন্টারে রেফার করে দিই সেখান থেকে অ্যান্টিভেনম পেল আইসিইউ এর প্রয়োজন হলে সেটাও পেল।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, রোগীর পালস আমরা পেয়েছিলাম। তাকে ব্যাথাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছিল। তবে রক্তের প্রেশার তেমন ছিল না। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সাপটি বিষধর ছিল। তবে কি সাপ তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন,
‘নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তারন্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।’