তেঁতুলিয়ায় নিম্ন মানের ব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা, ফসলি জমির মাটি কাটছেন ঠিকাদার

Spread the love

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের গুয়াবাড়ী থেকে সিপাইপাড়া ইউনিয়নের হাজিপাড়া পর্যন্ত ইউনি ব্লক সড়ক নির্মাণের কাজে নিম্ন মানের ব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি রাস্তার ফেলানো দৃশ্য চোখে পড়ে যা আইনত দ-নীয় অপরাধ। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এর আগে নির্মাণকাজে বালুর সঙ্গে মেশানো হয়েছে মাটি, ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট। এখন কোনা ভাঙা, ক্রেক হওয়া নিম্ন মানের ব্লক দিয়ে কাজ করার পাঁয়তারা করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দেখার যেন কেউ নেই।
জানা যায়, গেলো বছরের ১৯ এপ্রিল বিকালের দিকে ওই রাস্তায় অনিয়মের নিউজ সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকের দিকে ত্যাড়ে এসে ছবি তুলতে বাধা প্রদান করেন ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োজিত মিস্ত্রি রায়হান। এ সময় সাংবাদিকদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারন করেন ঠিকাদারের ম্যানেজার ওমর ফারুক। এরপর যমুনা টেলিভিশনসহ জাতীয় ও অনলাইন পত্রপত্রিকায় ওই রাস্তার অনিয়মের নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের কয়েকদিন পর বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁও এর নজরে এলে ওই মাসের ২৯ এপ্রিল অভিযানে আসে দুদক। অভিযানের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁও এর সহকারি পরিচালক ইমরান হোসেন জানিয়েছিলেন, সড়ক নির্মাণে নিম্ন মানের বালি ও ইটের খোয়া ব্যবহার করার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে সড়কটি তদন্ত পূর্বক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। কিন্তু আদৌ তার ফলাফল জানতে পারেনি এলাকাবাসী। আরও জানা যায়, ওই সময় উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে অনিয়ম দেখতে পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন ও দুদককে এলজিইডি তোয়াক্কা না করে তাদের নিজস্ব গতিতে চলছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে তিরনইহাট ইউনিয়নের গুয়াবাড়ী থেকে সিপাইপাড়া ইউনিয়নের হাজিপাড়া পর্যন্ত ৬ হাজার ২১০ মিটার ইউনি ব্লক সড়ক নির্মাণে চুক্তিমূল্য ১১ কোটি ৯৮লাখ ৭৫ হাজার ১৯২ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ কাজটি পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহ জেলা শহরের ভুতের গলি মো. মিজানুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান। আরও জানা যায়, দরপত্রে নির্বাচিত ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়েছেন তানিয়া কনস্ট্রাকশন, ঠাকুরগাঁও। যার স্বত্বাধিকারী হচ্ছেন মো. আব্দুস সামাদ। বর্তমানে আব্দুস সামাদ কাজটি করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ‘ঠিকাদার গত ২০২৪ সালে বর্ষার আগ থেকেই এই রাস্তার মাটি কেটে রাখেন। মাটি কেটে রাখার পর ২০২৫ সালে যখন কাজ শুরু হয় এলাকার মানুষ খুবই খুশি হোন। কিন্তু এলাকাবাসী রাস্তার কাজে দেখেন, বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আগের মাটিগুলো কিছু সরিয়ে নিলেও পুনরায় বালুতে মেশানো হয়েছে মাটি। তারা আরও বলেন, রাস্তায় যে খোয়া ব্যবহার হচ্ছে তা নিম্ন মানের ইট দিয়ে। রাস্তার কাজ ভালোভাবে করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মিলন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মাটি পাওয়া যাচ্ছেনা তাই এলাকার মানুষদের ব্যক্তিগত জমি থেকে মাটি ক্রয় করা হচ্ছে। এই মাটি রাস্তার সাইটে ফেলানো হচ্ছে। আগে কি হয়েছে তা তো হয়েই গেছে এখন রাস্তায় কোনো অনিয়ম হচ্ছেনা।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে দায়িত্বে থাকা ওই রাস্তার কার্যসহকারী রাহুল বলেন, ভেকু মেশিন দিয়ে উত্তোলিত মাটি রাস্তার সাইটে ফেলানো হচ্ছে। দু’একটি ব্লক আছে ওগুলো চেঞ্জ করে দিবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী খাঁন বলেন, রাস্তার কাজে অনিয়মের কোনো প্রশ্নই আসেনা এবং তিনি এ বিষয়ে খুবই সতর্ক। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *