শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য বিএনপি সরকার সবসময় মানুষের সাথে আছে। বিগত সরকার গত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্প আর মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল, তারা স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব আমাদের সকলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরী গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে কমে আসছে। তিনি বলেন আমাদের দেশে হাম, চিকেন পক্স পূর্বেও ছিল,এখন তেমন দেখা যায় না। ভয় না পেয়ে মনোবল ধরে রাখতে হবে। তিনি জনগণের মধ্যে হাম প্রতিরোধে উপায় এবং শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার,প্রচারণায় মিডিয়ার সাংবাদিকদের আহবান জানান।
মন্ত্রী আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ সমূহের চিকিৎসকদের আয়োজনে দেশব্যাপী ‘হাম’ এর প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
জনসচেতনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান,
বিএমএ ও ড্যাব এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ঢাকার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি, আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার সুফিয়া খাতুন। অনুষ্ঠানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষডা. মোঃ মনিরুজ্জামান, জাতীয় নিউরোসাইন্স ইনিস্টিটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ নুরুজ্জামান খসরু, মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার মোশাররফ হোসেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ জাকির হোসেন, কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবীর লাবু, সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা.খায়রুজ্জামান এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, সার্জন ও চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মায়েদেরকে বলবো- শিশুদের জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নাই। পানি না মিশিয়ে শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান এতে শিশুদের পুষ্টিগুণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্গম এলাকা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং শিশু-মাতাদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বলেন, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা, আইসোলেশন ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি সহায়তা এবং জটিলতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। ছুটি বাতিল করে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রী অভিভাবকদের বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা দিন। হামের লক্ষণ দেখা দিলে (জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র্যাশ) অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। ভিড় এড়িয়ে চলুন, হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সমাজের সকল স্তরকে এই অভিযানে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এমপি বলেন, হামের এই প্রাদুর্ভাব টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম না করা এবং সচেতনতার অভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে মোকাবিলা করছে। এখন পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ জেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন চলছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আমরা হটস্পট এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দিয়েছি। হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা রোগীর দ্রুত সেবা, সময়মতো চিকিৎসা দিন এবং জটিলতা (নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস) প্রতিরোধে সতর্ক থাকুন। সার্ভেইল্যান্স জোরদার করুন এবং প্রতিটি কেস রিপোর্ট করুন। মন্ত্রী বলেন , জনগণের কাছে আমার আহ্বান— টিকা না নেওয়া শিশুদের অবিলম্বে টিকা দিন। হাম ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন। পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। গুজব ছড়াবেন না, সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন। আমরা আশা করি খুব শিগগিরই এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে হামমুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ ।