৪৫০ বছর ধরে ফিলিস্তিনে খাবার জোগাচ্ছে হুররাম সুলতানের সেই লঙ্গরখানা

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

নানান কারণে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান প্রথম সুলাইমানের স্ত্রী হুররাম সুলতান। হেরেমের সব কাজ সামলানোর পাশাপাশি গরিব-দুখীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি।
জীবদ্দশায় অসংখ্য জনসেবামূলক কাজ করে গিয়েছেন হুররাম সুলতান। যার ফলে নানান বিতর্কের পরও ইতিহাসের পাতায় এখনো অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।
জনসেবামূলক কাজের ধারাবাহিকতায় ১৫৫২ সালে ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদের অ্যাসেম্বলি গেট থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে হাসেকি সুলতান ইমারত নামে একটি লঙ্গরখানা নির্মাণ করেন হুররাম; যা এখনো জেরুজালেমে গরিব-দুখী, মসজিদুল আকসার কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছে।
ইসরাইল ফিলিস্তিন দখলের আগে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এ দাতব্য সংস্থা তুর্কি সুলতানদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। বর্তমানে এটি জর্ডানের ওয়াকফ ইসলামিক বিষয়ক ও পবিত্র স্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
হাসেকি সুলতান ইমারতের বর্তমান পরিচালক আবু লুব্দি আনাদুলু এজেন্সিকে বলেন, হাসেকি সুলতান ইমারত সারা বছর জেরুজালেমের গরিব-দুখীদের মাঝে খাবার বিতরণ করে। পবিত্র রমজানে এর পরিমাণ প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। জেরুজালেমের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির মধ্যেও আমাদের কাজ চলছে। দখলদার ইসরাইলিদের নানা বাধা সত্বেও জেরুজালেমের দুস্থদের খাবার চাহিদা মিটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এ অন্নশালাটি।

তিনি বলেন, সারা বছর আমরা ৫০ থেকে ৭০টি অভাবি পরিবারের জন্য প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ করে থাকি। রমজানের সময় এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পায়।
প্রতিদিন সকালে এসব পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। দুপুরে দর্শনার্থীদের এবং সন্ধ্যায় মসজিদের ইমাম, কর্মচারীদের খাবার দেওয়া হয়।
সবাইকেই মাংস, মুরগি ও ভালো চালের উন্নত খাবার দেওয়া হয়। খাবার বিতরণে ধনী-গরিবের মাঝে কোনো তারতম্য করা হয় না।
আবু লুব্দি বলেন, আমরা কখনই কাউকে জিজ্ঞেস করিনা সে ধনী কিংবা গরিব কিনা। সবাই খাবার গ্রহণে আমাদের এখানে আমন্ত্রিত। এমনকি কখনো অমুসলিমরাও আমাদের এখানে আসেন এবং আমরা কাউকেই ফিরিয়ে দেই না।
ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়- অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ৩ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করেন; যাদের ৮০ শতাংশেরও বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তাদের অনেককে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
নিয়মিত খাবার বিতরণের এ কাজকে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আবু লুব্দি।
তিনি বলেন, আমরা এখানে মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে পরিবারগুলোকে রক্ষা ও সহায়তা করতে এসেছি। এ বন্ধনই জেরুজালেমে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *