আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা নৌযানে হামলা চালিয়েছে। সোমবারের এই হামলা দু’পক্ষের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নতুন করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এমন এক সময়ে এই হামলা চালানো হলো, যখন কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন।
একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
মার্কিন এই হামলার পর, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা করতে দেখা যায়। কারণ, এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষায়, আজ দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।’
তবে বিবৃতিতে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা নৌযান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের দিকে বান্দর আব্বাস এলাকার আশপাশে কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের ওই বন্দরনগরীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এই হামলা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একই সময়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।