ইসলামী ব্যাংকে তোলপাড়

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, পুলিশি বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় গতকাল দিনভর উত্তপ্ত ছিল ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় এলাকা। রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ডাকা কর্মসূচি কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ব্যাংকে যাননি। পরে তাঁর সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। এতে পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ অংশ নেয়। সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অন্যদিকে গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত অনেকে : প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। পুলিশের এ পদক্ষেপে আন্দোলনকারীরা আশপাশের গলিতে ছড়িয়ে পড়লেও সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ গলিগুলো থেকেও তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনের সড়কের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সড়কের দুই পাশে সাঁজোয়া যান, জলকামান ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশের একাধিক টিমকেও দেখা যায়। সকাল ১০টার পর আবারও পুলিশি ব্যারিকেডের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রাহকদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা তাদের বিভিন্ন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। দিনভর থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে রাজধানীর আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায়।
ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান বলেন, ‘ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলেন। তাদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। পুলিশি হামলায় আহত অন্তত ২৫ জন গ্রাহকের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এক পর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, একই স্থানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও চাকরিচ্যুত কর্মীদের দুটি পক্ষ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছিল। চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি গ্রুপ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
চেয়ারম্যান পদে থাকছেন খুরশীদ আলম : চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমই বহাল থাকছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে চেয়ারম্যান নিয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই। আজ যদি কোনো আন্দোলনের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তাহলে আগামীকাল বিপরীত অবস্থানের আরেকটি গ্রুপ আন্দোলন করলে কী হবে? তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করবে। আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
গ্রাহকদের ওপর হামলার নিন্দা জামায়াতের : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের অর্থে পরিচালিত হয়। গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক টিকে থাকতে পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠ রোধ করতে পুলিশের গুলি ও বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে গ্রাহকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রশমনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *