বিটাকের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের সুফল বেশি, নারীদের শতভাগ কর্মসংস্থান ইতিবাচক বার্তা: -শিল্প, বানিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে তার কার্যকর ফলাফলের ওপর। এ বিবেচনায় বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিটাক) পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের অন্যতম সফল বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটাকের সম্মেলন কক্ষে ‘হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে অনেক প্রকল্পে বিনিয়োগ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে বিটাকের এ প্রকল্পে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রায় ১২১-১২৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার প্রশিক্ষণার্থী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের প্রশিক্ষণ শুধু কারিগরি দক্ষতাই নয়, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মনোভাব গড়ে তুলছে। এই মানবিক ও পেশাগত গুণাবলি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে কার্যক্রম যাতে থেমে না যায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে প্রকল্পটি সম্প্রসারণ কিংবা নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিটাকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী অধিকসংখ্যক দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে বিটাকের প্রশিক্ষকদের সঙ্গে রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও সার্বিক প্রশিক্ষণ পরিবেশও পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০তম ব্যাচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যা এ প্রকল্পের কার্যকারিতার বড় প্রমাণ। অন্যদিকে, অনেক পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী চাকরির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা করায় তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ গ্রহণ করেননি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিটাকের প্রশিক্ষণের উচ্চ গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে দেশের শিল্পখাতের জন্য যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হয়।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেছেন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিটাক) পরিচালিত হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে নিজস্ব সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা কোর্স শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন, যা এ প্রশিক্ষণের মান ও শিল্পখাতে বিটাকের গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, বিটাক শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করছে না, বরং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, আত্মবিশ্বাস ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলছে। এ ধরনের মানবিক ও পেশাগত গুণাবলি একজন দক্ষ কর্মী তৈরির অন্যতম পূর্বশর্ত।

বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিটাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী বিভিন্ন শিল্প গ্ৰুপে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগ পত্র গ্রহণ করেন এবং নিয়োগপত্রগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য , এই প্রকল্পের ২০ তম ব্যাচে মোট ৩৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থী ৩ মাস ব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২৫৫ জন চাকুরি পেয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী।
ফেজ-২ প্রকল্পে মোট ১৩,২১০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৮,৪৬৫ জন চাকরি পেয়েছেন। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি প্রাপ্তির হার প্রায় ৬৪ শতাংশ।

এর আগে মন্ত্রী বিটাক প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *