নিজস্ব প্রতিবেদক:
উইলে এতিমদের জন্য রেখে যাওয়া সম্পদ ঘিরে নতুন শঙ্কা, ট্রাস্টের সহযোগিতা কামনা।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের চৌধুরীপাড়ায় ৫৮১/সি অবস্থিত একটি বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। ফজলুর রহমান ও ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির নামে প্রতিষ্ঠিত একটি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের দাবি, এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে উৎসর্গ করা সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সমাজের সচেতন মহল ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।
ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান ও ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। জীবদ্দশায় তারা নিজেদের নামে ‘ফজলুর রহমান-ফজিলাতুন্নেসা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি নিবন্ধিত উইলের মাধ্যমে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে দান করে যান। উইলের শর্ত অনুযায়ী, তাদের মৃত্যুর পর সব সম্পত্তির আয়-ব্যয় এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য, পোশাক ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ট্রাস্টের দাবি, বর্তমানে এই ট্রাস্টের অধীনে একটি নূরানী হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসা, জামে মসজিদ, প্রায় ৫০০ শতকের একটি কবরস্থান এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালিত হচ্ছে। মাদ্রাসায় শতাধিক এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা খরচে লেখাপড়া ও তিন বেলা খাবারের সুবিধা পাচ্ছে। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন আটজন শিক্ষক। তবে প্রতিষ্ঠানের মাসিক ব্যয় নির্বাহ করতে ট্রাস্টকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ট্রাস্টের মালিকানাধীন বাড়ি ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি আদালতের রায়ের পরও তিনি সম্পত্তি বিক্রি ও দখলের চেষ্টা করছেন বলে দাবি তাদের।
ট্রাস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-৩৩০৪/২০১৭-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট দেওয়া রায়ে ট্রাস্টের মালিকানার বিষয়টি বহাল রাখা হয়েছে। এরপরও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকায় এতিমদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাস্ট।
ট্রাস্ট পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সম্পত্তি রক্ষা করা সম্ভব হলে এতিম শিশুদের শিক্ষা ও লালন-পালনের কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে। তাই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে এসে এতিমদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। অত:পর ট্রাষ্টের দখলকৃত
ভবনের সামনে তারা মানববন্ধন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র, ও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবগ’।