শুভদিন রিপোর্টার:
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একজন ‘জাদুকর’ ছিলেন। দেশের রাজনীতি নির্ধারণে তাঁর মতো মানুষ এ ভূখণ্ডে খুব কম ছিলেন ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি আয়োজিত মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ১০২ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে একটি শক্তিশালী দল, নেতৃত্ব ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
দুদু বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ধারণে যাদু মিয়ার মতো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তিনি যা ভাবতেন, দেশের বাস্তবতায় তা বাস্তব রূপ দেওয়ার সক্ষমতা, বিচক্ষণতা ও নেতৃত্ব তাঁর মধ্যে ছিল।
তিনি নিজের একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভাষানী ন্যাপের মতো একটি সংগঠনকে একজন সামরিক বাহিনীর জেনারেলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে তাঁর মধ্যে প্রশ্ন ছিল। এ বিষয়ে তিনি যাদু মিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন যাদু মিয়া তাঁকে বলেছিলেন, ন্যাপ নিয়ে নির্বাচন করলে সংসদে ১০টি আসনও পাওয়া যাবে কি না, সেটি ভাবতে হবে। একই সঙ্গে সরকার গঠন, আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেছিলেন।
দুদুর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে প্রমাণ হয়েছে যাদু মিয়ার সেই রাজনৈতিক মূল্যায়ন সঠিক ছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা জনগণের সমর্থন পেয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠা, শহীদ জিয়াকে সামনে আনা এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব।
তিনি বলেন, শুরুতে তাঁর নিজের কিছু দ্বিধা থাকলেও পরে উপলব্ধি করেছেন, একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতো যাদু মিয়া অনেক দূরের কথা চিন্তা করতে পারতেন। আরও কিছুদিন বেঁচে থাকলে দেশ ও রাজনীতি তাঁর কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পেত। তাঁর ভাষায়, “যাদু ভাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একজন জাদুকর।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ, জ্যৈষ্ঠ শিক্ষাবিদ ড. মাববুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান প্রমুখ।