নিরাপত্তা শঙ্কার পর এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান শিল্পখাতের নেতাদের

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্মুক্ত করার গতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা চেয়ে মঙ্গলবার একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক কর্মী। তাদের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও রয়েছেন।

‘পেসিং দ্য ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক ওই আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ‘স্বয়ংক্রিয় এআই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে পরিকল্পিতভাবে ধীর করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কাঠামো গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সহায়তা’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নির্মাতাদের দ্রুত অগ্রগতিতে স্বেচ্ছায় কিছুটা বিরতি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সময় পায়।

আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনএআইয়ের গবেষণা প্রধান, গুগলের এআই সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের কৌশলগত প্রধান এবং মেটা এআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী।

আবেদনে বলা হয়, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলো মনে করছে, তারা হয়তো এআই গবেষণাকে স্বয়ংক্রিয় করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে এআইয়ের অগ্রগতি কতটা ত্বরান্বিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে সক্ষমতার উন্নয়ন এত দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে, যা থেকে তৈরি হওয়া ব্যবস্থাগুলোকে বোঝা বা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে।’

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই সম্প্রতি এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাদের দুটি এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলা চালায় এবং এ ধরণের ঘটনা ঠেকাতে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যায়।
গত সপ্তাহে ওপেনএআই জানায়, সাম্প্রতিক পরীক্ষার সময় ওই মডেল দুটি নিজেদের সীমাবদ্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয় এবং ডেভেলপারদের কোড সংরক্ষণ ও ভাগাভাগির প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ করে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ইনভেস্ট লাইক দ্য বেস্ট’ পডকাস্টে অল্টম্যান বলেন, ‘এটাই প্রথম নিরাপত্তাজনিত ঘটনা, যা আমাকে সত্যিই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আরও বেশি মানুষের একই ধরণের প্রতিক্রিয়া না দেখে আমি কিছুটা বিস্মিত।’

-‘সিঙ্গুলারিটি’ এসে গেছে-
এটি প্রথম ঘটনা নয়, যখন কোনো এআই মডেল নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়েছে।

অল্টম্যান জানান, এর পর ওপেনএআই তাদের নিজস্ব পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোড বিচ্ছিন্ন রাখার প্রক্রিয়া, অর্থাৎ ‘স্যান্ডবক্সিং’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।

অল্টম্যান বলেন, ‘এআই উন্নয়নের গতি হয়তো এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে এসব নতুন সক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমাজ পর্যাপ্ত সময় পায়।’

তিনি বলেন, এ ধরণের উদ্যোগ এমনভাবে নিতে হবে, যাতে এটি কারও কাছে নিয়ন্ত্রক সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টা বলে মনে না হয় এবং শীর্ষ এআই গবেষণাগারগুলোর মধ্যে আঁতাত বলেও মনে না হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য যথেষ্ট কাজ করতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

শনিবার প্রকাশিত আরেকটি পডকাস্ট ‘রিলেন্টলেস’-এ অল্টম্যান বলেন, তার বিশ্বাস, ‘সিঙ্গুলারিটি’Ñঅর্থাৎ প্রযুক্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানো, যেখানে তা মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও নিয়ন্ত্রণকে ছাড়িয়ে যায়Ñইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন সিঙ্গুলারিটির মধ্যেই আছি। এটাই সেই মুহূর্ত।’

প্রতিদ্বন্দ্বী এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকও ইচ্ছাকৃতভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর ধারণাকে সমর্থন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *