শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
সড়ক যোগাযোগ, সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বগুড়ার উন্নয়নকে সরকার কোনো রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক বিবেচনায় দেখছে না। জাতীয় স্বার্থে এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতির অংশ হিসেবেই বগুড়ার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
শনিবার বগুড়ায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বগুড়া ২০ বছর বঞ্চিত ছিল, এটা সত্য। বৈষম্য স্বীকার হয়েছে, এটাও সত্য। সংসদ সদস্যরা বগুড়ার পক্ষে উন্নয়নের জন্য সোচ্চার থাকবেন, এটা ন্যায্য। এটা তাঁদের অধিকার। আমরা আপনাদের কাছ থেকে দাবি শুনব এবং সেই দাবি পূরণে সচেষ্ট থাকব। এটা সরকারের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, সরকার বগুড়াকে কোনো রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব অথবা অঞ্চল হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। বগুয়ায় এমন কিছু উন্নয়ন অবধারিত থাকা দরকার, যা জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে—সেভাবেই সরকার বিষয়টি দেখে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার উন্নয়নটা আঞ্চলিক না, জাতীয়। বগুড়া সমৃদ্ধ হলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। বগুড়ার অবকাঠামো উন্নয়ন হলে সেই উন্নয়ন জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে।’
তিনি জানান, বগুড়ার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সড়ক বিভাগের একটি জোন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সড়ক বিভাগের ১০টি জোন ছিল ৬৪ জেলায়। এবার বগুড়ায় একটি জোন করা হচ্ছে, যা পাঁচটি জেলাকে সমন্বিত করবে। তাঁর ভাষায়, একটি জোন করা মানে ওই এলাকার অবকাঠামোকে ঢেলে সাজানো।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, উন্নয়ন যেখানে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন, সেখানেই হবে। এই উন্নয়ন এই এলাকার অর্থনীতি বিকাশের জন্য প্রয়োজন বিধায় আমরা করছি। কোনো রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক প্রয়োজনে করছি না। আবারও বলছি, জাতীয় স্বার্থে করছি। জাতীয় অগ্রগতির অংশ হিসেবে করছি।’
বগুড়ার মানুষের গর্ববোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের একজন কৃতী সন্তান প্রধানমন্ত্রী। পুরা বাংলাদেশটাকে সমৃদ্ধ করার, পরিচালনা করার, ব্যবস্থাপনা করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর পড়েছে। এই জন্য একটু সংযমও চাই, একটু গর্ববোধ করবেন সেটাও চাই।’
এর আগে তিনি বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নতুন পরিচালনা পরিষদের শুভকামনা জানান এবং অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, বগুড়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের সূতিকাগার। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া। তাঁর নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রদর্শনের মাধ্যমে দেশ গঠনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষ পরিশ্রমী, দেশপ্রেমী, উদ্যোক্তা এবং সততার মাধ্যমে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে অভ্যস্ত। বগুড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং হাব হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেদের চেষ্টায় অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এটিকে আরও বেগবান ও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বেসরকারি খাতের শিল্প উদ্যোক্তারা বগুড়াকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং হাব ও কৃষিভিত্তিক শিল্প বগুড়া ও এই অঞ্চলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রসারিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশি বিনিয়োগ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ আগামী দিনে এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশা। তাঁদের মেয়াদে বগুড়ার উন্নয়ন ও বিকাশ ভিন্ন মাত্রা পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও শপথ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। এটাই রাষ্ট্রের দাবি এবং এ অঞ্চলের মানুষের দাবি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য শিল্প এবং বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মুরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মুহিত তালুকদার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসমাইল স্বাধীন এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেঞ্জির আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।