নূরের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার মধ্যে দিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: আসিফ মাহমুদ 

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার মধ্যে দিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ঘটেনি, যা এ সরকারের আমলে ঘটেছে। এর দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই নিতে হবে।’

আজ রোববার দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে দেখতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যেহেতু রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের চেষ্টাটা ব্যর্থ হয়েছে। তাই জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে একদম সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখেছি বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিবাদী সংসদকে বারবার বৈধতা দিয়েছে। কীভাবে ভারত থেকে প্রেসক্রিপশন এনে বাংলাদেশে তারা একটি কৃত্রিম সংসদ তৈরি করেছে। কৃত্রিম গণতন্ত্র দেখিয়েছে। এই চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদের কোনোভাবে, কোনো ধরনের সমর্থন কেউ যদি দেওয়ার চেষ্টা করে তা প্রতিহত করা হবে। এবং একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সমর্থন নেই, একই সাথে জনগণের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রুখে দাঁড়াবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের নামে অনেকেই চাইবে না যে আগামীর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ছাড়া আওয়ামী লীগের স্টাবলিসমেন্ট ছাড়া কোনো ধরনের রাজনৈতিক অথবা গণতান্ত্রিক সেটেলমেন্ট হয়ে যাক। ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারি দল, বিরোধী দল হয়ে গেলে সেই সেটেলমেন্ট আসলে হয়ে যাবে। সেই জায়গা থেকে অনেকে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করবে। তারা আওয়ামী লীগকে নানা ফরমেটে যদি না আনতে পারে, তাহলে তারা সেটি বানচালের চেষ্টা করবে বলে আমরা ধারণা করি। আমরা এ ধরনের সকল প্রচেষ্টাকে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দলগুলো এবং সরকার রুখে দেওয়ার জন্য তৎপর আছে।’

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকার এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল সিদ্ধান্তে এখনো আসেনি। সরকার স্টেকহোল্ডারদের সাথে ইতোমধ্যেই বৈঠকে ডেকেছে। আজকেও আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং জুলাইয়ের কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে বসবে। রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য আসবে সে অনুযায়ী সরকার বিবেচনা করবে।’

গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সরকার একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করার বিষয়ে ভাবছে। এটা তো আসলে কোনো রাজনৈতিক সাধারণ কর্মীরদের ওপর হামলার ঘটনা না। এটা একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতার ওপরে হামলা। আমরা আওয়ামী লীগের সময়েও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখিনি। এটা অবশ্যই দুঃখজনকভাবে হয়েছে। সে জায়গা থেকে অবশ্যই যেহেতু এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে আছে, যেই করুক এই দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। এবং সরকারকে এটার সমাধান করতে হবে। এই হামলার বিচার করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাহস করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *