ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন বিল: জাল পাসপোর্ট, ভিসা ব্যবহারে ৭ বছরের জেলসহ ১০ লাখ টাকা জরিমানা

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

সংসদে পাস হয়ে গেল ভারতের নতুন অভিবাসন বিল। পিটিআই সূত্রে খবর, এই বিলে ভারতে অবৈধ বসবাস নিয়ে কড়া শাস্তির নিদান রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিক জাল পাসপোর্ট বা ভিসা নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়লে ৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আনা এই বিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কোনও বিদেশি নাগরিক ভারতে থাকছেন কি না, তা জানতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এই বিষয়ে তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এবং জাহাজগুলোকে যাত্রী এবং ক্রুদের সম্পর্কে আগাম তথ্য প্রদান করতে হবে। ১১ মার্চ লোকসভায় উপস্থাপিত বিল অনুসারে, ‘যে কেউ জেনেশুনে জাল বা অবৈধভাবে প্রাপ্ত পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, বা ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ বা থাকার চেষ্টা করবে তাকে সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে, যা সাত বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।’
বিলে আরও বলা হয়েছে, যে কোনও বিদেশি বৈধ পাসপোর্ট বা প্রয়োজনীয় ভিসাসহ ভ্রমণের নথি ছাড়া ভারতের কোনও অঞ্চলে প্রবেশ করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, ১ এপ্রিল, ২০২৩ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত ৯৮.৪০ লাখ বিদেশি ভারতে আসেন। এই বিল আইনে পরিণত হলে তা কেন্দ্রীয় সরকারকে বিদেশিদের দ্বারা ঘন ঘন ভ্রমণের এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে।

সেই এলাকাগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, তাদের ব্যবহারের উপর শর্ত আরোপ করতে বা বিদেশিদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতা দেবে। অভিবাসন এবং বিদেশি বিল, ২০২৫ এর লক্ষ্য বিদেশি এবং অভিবাসন সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়কে ব্যাপকভাবে নজরদারি করা। বর্তমানে চারটি আইন রয়েছে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসন নিয়ে। এগুলো হলো পাসপোর্ট আইন (১৯২০), বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন আইন (১৯৩৯), বিদেশি নাগরিক আইন (১৯৪৬) এবং অভিবাসন আইন (২০০০)। এই চারটি পৃথক আইনের বদলে এ বার একটিই আইন চালু করতে চাইছে কেন্দ্র। নতুন বিলে অনেক আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবার নতুন ধারাও যোগ করা হয়েছে।

সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *