শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অবস্থা ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।
রামাল্লাহ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
জাতিসংঘ জানায়, ২১ জানুয়ারি ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভূখণ্ডের উত্তরে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করে। তখন থেকে প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং প্রায় ৫ লাখ ইসরাইলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ইসরাইলিরা অবৈধ বসতি গড়ে তোলে।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের হামাস শাসকদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর শেষ হওয়ার দুই দিন পর ইসরাইল পুনরায় অভিযান শুরু করে। ‘লৌহ প্রাচীর’ নামে পরিচিত ইসরাইলি অভিযানটি মূলত জেনিন, তুলকারেম এবং নুর শামস তিনটি শরণার্থী শিবির লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফেব্রুয়ারিতে বলেন, ‘অভিযানটি কয়েক মাস স্থায়ী হবে।’
এই অঞ্চলে পর্যবেক্ষণরত এমএসএফ বলেছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’।
এনজিওটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা ‘যথাযথ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।’ ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।’
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এএফপি’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে, বলেছে, তারা ‘জটিল নিরাপত্তা বাস্তবতায় হামাসসহ সকল সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে’ অভিযান চালিয়ে আসছে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আইডিএফ আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এবং জড়িত না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতি কমাতে সম্ভাব্য সতর্কতা অবলম্বন করে।’
তবে, এমএসএফ বলেছে, পশ্চিম তীরে এতো বেশি মাত্রায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও শিবির ধ্বংস হয়েছে যা কয়েক দশকের মধ্যে আর দেখা যায়নি।
এমএসএফের অপারেশন ডিরেক্টর ব্রাইস দে লা ভিনগনে বলেছেন, ‘ইসরাইলি বাহিনী শিবিরগুলোয় প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। ফলে মানুষ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারছে না।’ তিনি বলেন, ‘ইসরাইলকে এটি বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার।’