ফিনল্যান্ডে আটক জাহাজে ইইউ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ ইস্পাত বহন করা হচ্ছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনের মধ্যে সমুদ্রতলের একটি টেলিযোগাযোগ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করার সন্দেহে ফিনল্যান্ডে আটক জাহাজটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ভুক্ত রুশ ইস্পাত বহন করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার ফিনিশ পুলিশ ১৩২ মিটার দীর্ঘ কার্গো জাহাজ ফিটবার্গ এবং এর ১৪ জন ক্রু সদস্যকে আটক করে। জাহাজটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ইসরায়েলের হাইফার পথে ছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, এর নোঙর ফিনল্যান্ড উপসাগরে পানির নিচের টেলিকম কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

হেলসিঙ্কি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ফিনল্যান্ড কাস্টমস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কার্গোতে রাশিয়া থেকে আসা ইস্পাতজাত পণ্য ছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে।

বুধবার রাতে কার্গো পরীক্ষা করে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কাঠামোগত ইস্পাত ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাতভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

‘ইইউ নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী এ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ’ বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

ফিনিশ কাস্টমস জানায়, তারা এখনও তদন্ত করছে এই ক্ষেত্রে ইইউ নিষেধাজ্ঞা আইন কতটা প্রযোজ্য। ইস্পাত আপাতত জব্দ রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফিনিশ পুলিশ জানিয়েছে, কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে ‘গুরুতর অপরাধমূলক ক্ষতি, গুরুতর অপরাধমূলক ক্ষতির চেষ্টা এবং টেলিযোগাযোগে গুরুতর হস্তক্ষেপ’ হিসেবে।

— ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’—
ফিটবার্গ জাহাজটি সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস পতাকাবাহী। এর ১৪ জন ক্রু সদস্য রাশিয়া, জর্জিয়া, আজারবাইজান ও কাজাখস্তানের নাগরিক। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুই ক্রু সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও দুইজনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাল্টিক সাগরে জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো, বিশেষ করে পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ ইউক্রেন আগ্রাসনের পর অনেক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতা এসব কেবল ধ্বংসকে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বৃহস্পতিবার বলেন, ইউরোপ এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ এর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নাশকতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইইউ পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বৃহস্পতিবার বলেন, ইউরোপ সতর্ক রয়েছে কারণ এর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি এক্সে লেখেন, ‘নতুন কেবলে বিনিয়োগ, নজরদারি জোরদার, দ্রুত মেরামতের সক্ষমতা নিশ্চিত করা ও মস্কোর ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইইউ তার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করবে।

বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত কেবলটি ফিনল্যান্ডের টেলিকম প্রতিষ্ঠান এলিসার মালিকানাধীন। এটি এস্তোনিয়ার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত। এলিসা জানিয়েছে, তাদের সেবা অন্য পথে চালিত করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *