শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, আশার আলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আশা, মানবতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই বিদ্যালয়টি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের আত্মবিশ্বাসী, আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে অন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
তিনি আজ ঢাকায় খিলক্ষেতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুল আশার আলো, ঢাকার নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বক্তৃতা করেন।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, প্রতিটি শিশুরই জন্মগত অধিকার রয়েছে সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার। শিশুদের মাঝেই লুকিয়ে থাকে আগামীর সম্ভাবনা, আগামীর নেতৃত্ব। আমাদের সমাজে কিছু শিশু বিশেষ প্রতিভা ও সক্ষমতা নিয়ে জন্মায়, আবার কিছু শিশু জন্মায় বিশেষ চাহিদা নিয়ে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা কোনোভাবেই সমাজের বাইরে নয়। তারা এই সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকল স্বাভাবিক শিশুর মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও সমান অধিকার রয়েছে শিক্ষা, সেবা ও সুযোগ-সুবিধা লাভের। তাদের জন্য উপযোগী পরিবেশ, সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং কার্যকর শিক্ষা গড়ে তোলায় আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে নির্মিতব্য ‘ আশার আলো ঢাকা’-এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ঢাকা ও ৬টি বিভাগীয় শহরে মোট ১১ টি স্কুল চালু করা হয়েছে। উক্ত স্কুলগুলোতে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল
ডিজঅর্ডার সমস্যাগ্রস্ত শিশুদের অক্ষর জ্ঞান, সংখ্যা, সংগীত, খেলাধুলা, সাধারণ জ্ঞান, যোগাযোগ, সামাজিকতা আচরণ পরিবর্তন এবং পুনর্বাসন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিশেষায়িত বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে শিক্ষা এবং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ টি জেলা ও ৩৯ টি উপজেলায় মোট ১০৩ টি বিশেষ সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এই সকল কেন্দ্র সমূহ হতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অটিজমসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে বিশেষ শিক্ষা ও সেবা, কাউন্সেলিং এবং সহায়ক উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আশার আলো ঢাকায় বিশেষায়িত শিক্ষা, অটিজম সাপোর্ট প্রোগ্রাম, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, অভিভাবক কাউন্সেলিং এবং শিশুদের স্বনির্ভরতা উন্নয়নের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ সকল কার্যক্রম সশস্ত্রবাহিনীসহ সকল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্কুলটি পূর্বাচল সংলগ্ন খিলক্ষেত এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন দীর্ঘদিনের বিশেষায়িত স্কুলের চাহিদা পূরণ করবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বলেন, আমি আশার আলো স্কুলের অংশীদার হতে পেরে খুবই খুশি এবং আনন্দিত। বর্তমান সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ সকল কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। আমি এ ধরনের মহতী উদ্যোগে আমার পক্ষ হতে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করছি। আমি আশা করছি আশার আলো স্কুল ঢাকার উন্নয়ন এবং পরিচালনে ভবিষ্যতে সরকার সকল ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজে প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে আশার আলো স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র উপদেষ্টা প্রত্যক্ষ করেন। পরে উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুল ‘আশার আলো’ ১ দশমিক ৬ একর জমির উপর ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।