আনিসুর রহমান সোনারগাঁ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামারগাঁও মৌজায় প্রকাশ্য দিবালোকে খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগে চরম ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগের তীর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মীর কবিরের দিকে, যিনি একের পর এক খালের জায়গা ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে নেমেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে কামারগাঁও খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের পশ্চিম পাশের অংশ ভরাট করতে গেলে বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ হিসেবে প্রকাশ পায়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে কোনো প্রশাসনিক বাধা ছাড়াই রহস্যজনক প্রভাব খাটিয়ে পুরো জায়গাটি ভরাট করে ফেলেন মীর কবির। তখন প্রশাসনের নীরবতা এলাকাবাসীর মনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এবার সেই একই কৌশলে ব্রিজের পূর্ব পাশের খালের জায়গা ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মীর কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
আমি আমার ক্রয়কৃত জায়গাতেই কাজ করছি। সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে তারপর নির্মাণ শুরু করেছি। প্রয়োজনে কাগজপত্র দেখাতে পারি।
তবে তার এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, খালের সরকারি জায়গা দখল করেই ভরাট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা পরিবেশ আইন ও জলাধার সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
প্রভাবশালী হলেই কি আইন নিজের পকেটে রাখা যায়? খাল দখল করে বাড়ি বানানো হচ্ছে, আর প্রশাসন নিশ্চুপ! আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং খালটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতার জোরে বারবার খালের জায়গা ভরাট করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তাঁরা খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।
প্রশ্ন উঠেছে
খাল দখলের এই দুঃসাহস থামাবে কে? প্রশাসনের নীরবতা কি প্রভাবশালীদেরই শক্তি জোগাচ্ছে? নাকি কামারগাঁও খালও ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে?
এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।