শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
বিশ্বজুড়ে পরিচিতি আর গ্ল্যামারের চাকচিক্য যখন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, তখন নিজেকে খুঁজে পেতে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন অস্কারজয়ী হলিউড তারকা ম্যাথিউ ম্যাককনি। খ্যাতির তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই তিনি হলিউড থেকে নিজেকে নির্বাসিত করেন এবং সুদূর পেরুর এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে টানা ২২ দিন বিদ্যুৎহীন জীবনযাপন করেন।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের জীবনের সেই রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
ম্যাককনি জানান, জনপ্রিয়তার প্রাথমিক দিনগুলোতে চারপাশের মেকি পরিবেশ তাকে বিষিয়ে তুলেছিল। তাই বাস্তবতার জমিতে পা রাখতে তিনি তল্পিতল্পা গুটিয়ে পেরু পাড়ি জমান। সেখানে নিজের আসল নাম গোপন রেখে তিনি সবার কাছে ‘মাতেও’ পরিচয় দিতেন। ওই ২২ দিনে তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু মানুষের সঙ্গে মিশতে, যারা তাকে কোনো বড় তারকা হিসেবে নয় বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই ভালোবাসবে।
অভিনেতা জানান, প্রথম ১২ দিন কিছুটা অস্বস্তিতে কাটলেও শেষার্ধে তিনি এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পান। বিদায়বেলায় যখন স্থানীয়দের চোখে জল দেখেছিলেন, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ভালোবাসা ম্যাথিউ ম্যাককনি নামের তারকার জন্য নয়, বরং ‘মাতেও’ নামের সেই সাধারণ মানুষটির জন্য।
তবে শুধু পেরু সফরই নয়, নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরাতেও বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। টানা রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার সিনেমায় কাজ করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসায় তিনি সপরিবারে টেক্সাসে চলে যান। সে সময় হলিউড থেকে ১৪.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অফারও ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই কঠোর অবস্থান ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, তিনি শুধু অর্থের পেছনে ছুটছেন না।
দীর্ঘদিনের সেই বিরতি আর আত্মিক অনুসন্ধানই পরবর্তী সময়ে তাকে ‘ডালাস বায়ার্স ক্লাব’-এর মতো চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে অস্কার জেতার শক্তি জুগিয়েছিল।
সূত্র: ভ্যারাইটি