গুমের ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার: ইশরাকের

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, যারা গুম হয়েছেন, তাদের পরিণতি কী হয়েছে তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ বাংলাদেশ নতুনভাবে একটি মুক্ত ও স্বাধীন দেশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে এবং যতদিন আমরা বেঁচে থাকব, ততদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করা হবে।
এবং এই এলাকায় গুম হওয়া পরিবারের সকল দায়িত্ব আমার।

শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর সুত্রাপুরে ৪৩ নং ওয়ার্ডের গুম হওয়া পরিবারের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, গুম সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমান সরকার একটি কমিশন করেছিল, যেখানে অনেক তথ্য দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে দাবি জানানো হোক বা না হোক, তিনি বহু আগেই নিজের কাছে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যেদিন সুযোগ পাবেন, সেদিন গুমের ঘটনাগুলোর পূর্ণ তদন্ত করবেন। অর্ডার প্রদানকারী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যারা বাস্তবায়ন করেছে, প্রত্যেককে খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, এই নির্মম ঘটনার শিকার পরিবারগুলোকে তিনি নিজের পরিবার হিসেবে দেখেন। তিনি পরিচয় দেন, এরা তাঁর পরিবারের অংশ। পরিবারগুলোর সন্তানদের তিনি নিজের সন্তানের মতো মনে করেন। অনেক শিশু তখন ছোট ছিল, এখন তারা বড় হচ্ছে সবকিছু তিনি খুব কাছ থেকে দেখছেন।

ইশরাক হোসেন জানান, তাঁর থানা এলাকায় তিনটি এবং পুরান ঢাকা অঞ্চলে সাতটি গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে এই পরিবারগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নে আন্দোলন স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন এসব পরিবার ও নারীরা প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এই পরিবারগুলো গুমের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়, যার ধারাবাহিকতায় র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ছাত্রনেতা ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সবার অবদান রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে আশা প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই সাতটি গুমের ঘটনা। যেহেতু তিনি এই এলাকার মানুষ এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন, তাই তাদের বিচার নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব নেওয়া । এ বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় হবে না।

তিনি জানান, গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের বিষয়েও তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। এতদিন সুযোগ না থাকায় তিনি সে পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারেননি। আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও দমন-পীড়নের কারণে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এই সাতটি পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিজ কাঁধে নেবেন। পরিবারগুলোর সব প্রয়োজন তিনি নিশ্চিত করবেন। এ বিষয়ে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, পরিবারগুলোর সঙ্গে বসলে অনেক সময় নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই তাদের তিনি দেখছেন এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে দেশব্যাপী জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আসনেও বিপুল ভোটে বিজয় অর্জিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই বিজয় গুম হওয়া পরিবারগুলোর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই অর্জিত হবে ।

তিনি বলেন, আজীবন এই পরিবারগুলো তাঁদের স্মৃতিতে ও পরিবারে জায়গা করে থাকবে। তাদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ত্যাগের প্রতিদান বিজয়ের মাধ্যমেই দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *