শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহবিরোধী স্থল অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সর্বশেষ সতর্কবার্তায় জাহরানি নদীর দক্ষিণে অবস্থানরত সবাইকে এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
আইডিএফের এক মুখপাত্র সতর্ক করেন—হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরায়েলি সেনা এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে এবং অভিযান আরও নতুন এলাকায় সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা লিতানি নদীর ওপরে একটি উঁচু পাহাড়ি অবস্থানে অবস্থিত ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রায় ৯০০ বছর আগে ক্রুসেডারদের নির্মিত এই দুর্গ দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এটি নিয়ে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দুর্গ দখলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘৪৪ বছর আগে যে গোলানি ব্রিগেড এই দুর্গের জন্য যুদ্ধ করেছিল, সেই ইউনিটই এবার সেখানে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করেছে।’ তাঁর ভাষ্যমতে, দুর্গ ও এর আশপাশের উঁচু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি জনপদগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এক টেলিভিশন ভাষণে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘ভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি’ এবং ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নিচ্ছে না।
ইসরায়েলের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ায় তারা সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। শনিবার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ২৫টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তসংলগ্ন ইসরায়েলি অঞ্চলের কয়েকটি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে তিন হাজার তিনশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।