শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে বড় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এলাকা থেকে ইরানের তেলবাহী জাহাজ বের হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। তবে চুক্তির পথ এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছ নয় এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ট্যাংকারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, গত দুই মাসে এই প্রথম ইরান আবার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ—ডিওনা এবং হিরো-২—যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এলাকা থেকে বেরিয়ে গেছে। এই দুই জাহাজে মোট প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল ছিল। পরে আরও একটি জাহাজ ওই এলাকা ছাড়ে।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক পাহাড়ি রিসোর্টে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের পরপরই আরও বিস্তারিত আলোচনা চলবে, যা ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই একটি প্রাথমিক চুক্তির কাঠামো ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানকে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিতে পারে। পাশাপাশি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে, যা ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমা সেবার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।
এই ইতিবাচক অগ্রগতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৭৪ ডলারে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫.৮৫ ডলার।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যাতে কয়েকজন নিহত হয়েছে। ইরান এই ঘটনায় সতর্ক করে জানিয়েছে, এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও কিছু রক্ষণশীল রাজনীতিক এই শান্তি চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং চুক্তির বিস্তারিত জানতে চাইছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে একাধিকবার চুক্তি ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।